ArthoSuchak
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রেমিট্যান্স সংগ্রহে এগিয়ে ইসলামি ধারার ব্যাংক

অর্থনীতির সংকটকালে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবাসী আয়। অন্য সব খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে রেমিট্যান্স। তবে প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আসছে ব্যাংকের ইসলামি চ্যানেল দিয়ে।

ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে মোট ৪১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি চ্যানেল গুলো দিয়ে এসেছে ১৪ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা।

শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক ব্যাংকের মতো ঋণ না দিয়ে বিনিয়োগ আকারে অর্থায়ন করে থাকে। এ কারণেই দিন দিন শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত বছরে (২০১৯) এ খাতের ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় প্রায় ৫ শতাংশ। যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। কিন্তু ডিসেম্বর শেষে প্রথাগত ব্যাংকসহ গোটা ব্যাংক খাতের বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আটটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গরূপে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম) লিমিটেড, আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, শাহ্জালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড।

এই ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা এক হাজার ২২১টি, যেখানে দেশের গোটা ব্যাংক খাতে শাখার সংখ্যা ১০ হাজার ৪০৬টি। এছাড়া ৯টি প্রথাগত ব্যাংকের ১৯টি শাখা এবং আটটি প্রথাগত ব্যাংকের ৬১টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দেশের পুরো ব্যাংক খাতের আমানত ও বিনিয়োগ উভয় দিক দিয়েই এক-চতুর্থাংশ শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর দখলে। গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের প্রায় ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতের বিনিয়োগকৃত অর্থ বা ঋণের স্থিতি ছিল ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, যা গোটা ব্যাংক খাতের বিনিয়োগের ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

উল্লেখ, প্রথাগত বা কনভেনশনাল ব্যাংকিংয়ে সুবিধা করতে না পারায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকেছেন উদ্দ্যোক্তারা। ইসলামী ব্যাংকিং চালু করতে ডজন খানেক ব্যাংক আবেদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। এর মধ্যে দুটি ব্যাংককে ইসলামি ব্যাংকিং চালু করারর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য মতে, ৯ ফেব্রুয়ারি (২০২০) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪০২ তম পর্ষদ সভায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তর ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক করার প্রস্তাব করা হয়। সার্বিক বিবেচনায় ব্যাংক দুটিকে ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরিত করার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে। ইসলামি ব্যাংকগুলো যেখানে ৯০ টাকা দিতে পারে। এ ছাড়া প্রচলিত ধারার ব্যাংকের মতো ইসলামি ব্যাংকগুলোর সাড়ে ৫ শতাংশ হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করতে হয়। অথচ প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ১৩ শতাংশ এসএলআর রাখার বাধ্যবাধ্যকতা থাকলেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য তা সাড়ে ৫ শতাংশ। ইসলামি ব্যাংকগুলো যে কোনো সময় আমানতে মুনাফার হার পরিবর্তন করতে পারে। প্রচলিত ধারার ব্যাংক মেয়াদপূর্তির আগে যা পারে না। এসব কারণে প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকে ভালো মুনাফা হয়। ফলে অনেক ব্যাংক হয়তো ইসলামি ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ