সুদহার নির্ধারণে ক্ষুদ্রঋণ কমবে না: গভর্নর
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সুদহার নির্ধারণে ক্ষুদ্রঋণ কমবে না: গভর্নর

ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে এসএমই ক্ষুদ্রঋণ কমবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, সুদহার নির্ধারণের পাশাপাশি গত তিন বছরে যেই হারে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ হয়েছে আগামী বছর থেকেও একই পরিমাণ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আজ (৫ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২০ অনুষ্ঠানের সমাপণী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

ফজলে কবির বলেন, নির্দেশনায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে আমানতের সুদের পার্থক্য রাখা হয়েছে। সুতরাং এখানেও দুই খাতের ব্যাংকের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় ঋণগ্রহীতারা খেলাপি হয়ে পড়ছেন। এ কারণেই খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যদিও আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝেও এই বিষয়ে কথা বলছে না। যেমন, ২০১৫-১৬ এর দিকেও সুদ হার ১৫ অথবা ১৬ শতাংশও ছিল। তখন কৃষি খাতে সুদহার কমিয়ে ৯ শতাংশ করা হয়।

এর আগে একই অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, উচ্চ সুদহার ও চক্রবৃদ্ধি সুদহারের কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

ব্যাংকের সুদ হার ‘নয়-ছয়’ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সুদহার বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১৭ সালের জুলাই থেকে সুদহার কমানোর কথা বললেও বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই সুদহার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এই মূহুর্তে ব্যাংকে কোন তারল্য সংকট নেই জানিয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অতএব ব্যাংকিং খাতে একেবারেই তারল্য সংকট নেই। অনেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সমালোচনা করে বলেন, এখানে সুশাসনের অভাব রয়েছে। কিন্তু সুশাসনের অভাব তো সবখানেই রয়েছে। তবে বিশেষ করে ব্যাংকের জন্য এটা সুখকর নয়।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা শক্তিশালী ছিল। সব বুঝে-শুনেই বাংলাদেশ ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

খেলাপি ঋণ আন্তর্জাতিক মানে নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। রাজনৈতিক চাপে অনেক সময় ঋণ দেওয়া হয়। যেগুলো পরে খেলাপি হয়ে যায়। তাছাড়া ঋণ-আমানতের সুদের ব্যবধান বাংলাদেশে কখনোই সাড়ে ৪ শতাংশের নিচে ছিল না। কিন্তু নয়-ছয়ের কারণে তা ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে ব্যাংকের আমানত কমে যাবে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমবে। যার কারণে কমে যাবে কর্মসংস্থানের পরিধিও।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, অর্থনীতিবিদ মামুনুর রশীদ, ড. নাজনীন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থসূচক/এএইচআর/এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ