দিল্লিতে দাঙ্গা থামলেও থামেনি লাশের মিছিল, ড্রেনে ড্রেনে মিলছে লাশ
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দিল্লিতে দাঙ্গা থামলেও থামেনি লাশের মিছিল, ড্রেনে ড্রেনে মিলছে লাশ

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ড্রেন আলোচনায় এসেছে। গত পাঁচদিনে ওই ড্রেন থেকে অন্তত ১১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব মরদেহগুলো চলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহতদের।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও তিন শতাধিক মানুষ। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দিল্লির উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের সামনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-মসজিদসহ মুসলিমদের অসংখ্য বাড়িঘর ও দোকানপাট বেছে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এমনকি নামাজরত মুসল্লিদের মারধর ও গুলি চালানো হয়। সব মিলিয়ে যেন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দিল্লি।

ওয়ান ইন্ডিয়া বলেছে, গত পাঁচ দিনে উত্তর-পূর্ব দিল্লির একটি ড্রেনে ১১টি মরদেহ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত রোববার ও সোমবার পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ড্রেনে পাওয়া মরদেহগুলোর বেশিরভাগই পচে গেছে। ফলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষা এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

এছাড়া নিহতরা চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত কি না তা জানতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তার পরিচয় জানা গেছে। তার নাম অঙ্কিত শর্মা। তিনি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মকর্তা।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সহিংসতা চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে তিনি মারা গেছেন।

বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্ম-বিশ্বাস-সংস্কৃতির মানুষের একসঙ্গে বসবাসের গর্বিত ইতিহাস বয়ে চলা ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নেমে আসে। কেবল মুসলিমরাই নয়, খোদ সনাতন ধর্মের নিম্নবর্ণের দলিতরাও শিকার হন গণপিটুনি নামে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের।

সবশেষ অস্ত্র হিসেবে বিজেপি বেছে নেয় নাগরিকত্বের প্রশ্ন। মূলত দেশটি থেকে মুসলিমদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব আইন (এনআরসি) ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) করে মোদির সরকার, এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। আর এ নিয়েই উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র ভারত।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ