যুদ্ধের অবসানে তালেবান-মার্কিন ঐতিহাসিক চুক্তি
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

যুদ্ধের অবসানে তালেবান-মার্কিন ঐতিহাসিক চুক্তি

আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে দেশটির জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধের অবসানে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

ওয়াশিংটন থেকে দোহায় নেমে কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে পম্পেওর। কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক টুইট বার্তায় বলেছে, আফগানিস্তানের জন্য স্মরণীয় একটি দিন শনিবার।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এই চুক্তির ফলে আফগানিস্তানে মোতায়েনরত সৈন্যদের ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার শঙ্কায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে জাতির কল্যাণের জন্য আফগানিস্তানে যেকোনও ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সব যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, শান্তি চুক্তি এবং সমঝোতার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে।

তিনি বলেন, তালেবানের ভূখণ্ডের আকাশে বিদেশি সামরিক যুদ্ধবিমান এখনও ধারাবাহিকভাবে উড়ছে; এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং উসকানিমূলক। কিন্তু যোদ্ধারা আমাদের নির্দেশের প্রতি অটল রয়েছে।

স্মরণীয় দিন

আফগান লাখ লাখ নাগরিকের আশা এই চুক্তির ফলে দেশের ভেতরে আমেরিকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি হবে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে আফগানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার হামলার কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলায় লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সেই সময় ওয়াশিংটন অভিযোগ করে, জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা এবং সংগঠনটির প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে তালেবানের। দেশটির ক্ষমতা থেকে অপসারিত হলেও এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তালেবানের হাতে।

এই যুদ্ধ অনেক আগে শুরু হলেও ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তান থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তা তালেবান যোদ্ধাদের আন্তর্জাতিক বৈধতা দেবে।

চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদারের নেতত্বে গোষ্ঠীটির ৩১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে কাতারে পৌঁছেছে। দোহার শেরাটল হোটেলে স্বাক্ষর হতে যাওয়া ঐতিহাসিক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানে মোতায়েনকৃত ১৩ হাজার সৈন্যের মধ্যে থেকে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ জনকে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে। পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সৈন্যও তালেবানের সহিংসতার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: রয়টার্স, এপি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ