ArthoSuchak
সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

খুচরা বাজারে দাম কমেনি পেঁয়াজের

প্রায় পাঁচ মাস বাজার উত্তাল থাকার পরে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসতে শুরু করেছে রান্নাঘরের সব থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। তবে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও তার প্রভাব পড়েনি রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারগুলোতে। কারণ এখনও বিভিন্ন জায়গায় ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও, তালতলা, কল্যাণপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

কারওয়ান ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, বার্মিজ পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, চায়না পেঁয়াজ ৬৫ টাকা এবং পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। বার্মিজ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা পর্যন্ত। আর চাই না পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।

মিরপুর-২ নাম্বার বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসরকারি চাকরিজীবী সুলাইমান বলেন, শুনলাম বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সেই আগের মতই ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দাম বাড়লে একদিনেই বাড়াতে পারে কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম কমলে তাদের কমানোর হুঁশ থাকে না।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি করে। একদিনের ব্যবধানে দাম বাড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। দাম বাড়তে বাড়তে ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ভারত আবারও পেঁয়াজ রপ্তানি করার ঘোষণা দিলে গতকাল থেকেই পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে পাইকারি বাজারে।

এদিকে হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন দাবি করে কারওয়ান বাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, অনেকেরই গোডাউনে পেঁয়াজ রয়েছে। হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। ফলে অনেককেই এখন লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হবে।

গত সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করেছে আদা ও রসুনের। এ সপ্তাহের শুরুতে আরও কমেছে। কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজি প্রতি চায়না আদা ১১০ টাকা, দেশি আদা ১৮০, কেরালার আদা ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

এদিকে বাজারে প্রতি কেজি রসুনের দাম কমেছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে  রফতানি করা চীনা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। আর বাজারে দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম কেজিতে কমেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এছাড়া বাজারে ভালো মানের এক কেজি সিম কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আগের মতই প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। মুলা আর শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। একই সাথে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। আর প্রতি কেজি শসা ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে কাঁচা টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকায়। তবে ৮০ টাকার লাউ দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

এদিকে দাম না বাড়লেও নতুন করে কোন সুসংবাদ নেই তেল, চাল-ডাল, চিনি ও মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে। আগের মতোই উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যগুলো। তবে কিছুটা কম রয়েছে বয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০ টাকা, রুই মাছ আকার ভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোট মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ