ArthoSuchak
বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিএসইসির অনলাইনে অভিযোগ: ৬ মাসে ৯৫ শতাংশ নিষ্পত্তি

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত সেপ্টেম্বর অনলাইনে অভিযোগ করতে এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তিতে ‘ কাস্টমার কম্‌প্লাইন এড্রেস মডিউল’ চালু করে। অনলাইন মডিউল চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত ২০৬টি অভিযোগ জমা হয়। এর মধ্যে ১৯৫টি অভিযোগ নিশ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গড়ে এর নিষ্পত্তির সময় হচ্ছে সাড়ে ১৪ দিন। এর মধ্যে হলিডে এবং সরকারি ছুটির দিনও রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে গত বছরের অক্টোবরে। সে মাসে মোট ৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এবং ৮২টির সবগুলোই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর পরের মাসে (নভেম্বর ২০১৯) অভিযোগ জমা পড়ে ৫৬টি ও ডিসেম্বর মাসে জমা পড়ে ২৭টি। দুই মাসের সবকটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া কোনো অভিযোগ বাকি নেই। সবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভিযোগ জমা পড়েছে ১৯টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১৮টি এবং চলমান রয়েছে ১টি। আর ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ তথ্য মতে (২৬ তারিখ) অভিযোগ জমা পড়েছে ২১টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১১টি এবং চলমান রয়েছে ১০টি। গত দুই মাসে ১১টি অভিযোগ চলমান রয়েছে।

আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং জবাবদিহিতার আলোকে অনলাইন মডিউলটির পরিসংখ্যান বিভাগ সবার জন্য উনমুক্ত করা হয়। এখন থেকে কতটি অভিযোগ জমা হয়েছে, কতটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কতটি চলমান রয়েছে তা সকলেই দেখতে পারবে।

আজ বিএসইসি কর্তৃক আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিটেকশন অব ফ্রড’ বিষয়ক সেমিনারে এটি উনমুক্ত করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খাইরুল হোসেন।

এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, এই মডিউলটি চালু করার সময় আমরা আমাদের স্টেকহোল্ডার ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল এর সাথে কয়েক দফা আলোচনা করেছি এবং আলোচনা অনেক সময় নিয়ে করেছি। বেশ সময় দিয়েছি, পরিশ্রম করেছি, সবচেয়ে বড় কথা এটা আমরা প্যাশন নিয়ে করেছি। এটা করার সময় বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন হতে হয়েছে।

প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল যে, বিনিয়োগকারীরা কাগজে অভিযোগ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ঠিক তাদেরকে ৩৬০ ডিগ্রি পরিবর্তন করে একটি অনলাইন মডিউলে আনা। বিনিয়োগকারীরা কিভাবে নিবেন সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি ছিল আমাদের সিকিউরিটিজের সাথে কম-বেশি এক হাজার ইনস্টিটিউট যুক্ত। তাদের সবাইকে একসাথে লাইন অফ করা। এবং তারা যেন অনলাইন মডিউল এর মাধ্যমে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করেন সেটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তৃতীয় আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছিল অনেকেই বলেছেন অনলাইন মডিউলটি চালু করে আমরা একটি ঝামেলা বাক্স করছি কিনা। অনলাইনে অভিযোগ করবেন, আবার নিষ্পত্তি হবে এতে ঝামেলার সৃষ্টি হবে বলে মনে করেছেন। তবে আমি খুশি মনে বলতে চাই এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ অনেক ভালোভাবে সমাধান হয়েছে। এটা ভালোভাবে চলছে।

তিনি আরও বলেন, এই কাজটার মাধ্যমে যদি ভালো কিছু হয়ে থাকে তবে এটার দাবিদার আমার বিভাগ বা কমিশন না। কারণ এটা আমাদের কাজ। আমি ধন্যবাদ জানাবো আমাদের পার্টনার সিডিবিএলকে এবং এই সিস্টেমটি যিনি লিখেছেন সিডিবিএল এর ভ্যালু এডেড সার্ভিসেস এর প্রধান রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী।

দ্বিতীয়ত আমি ধন্যবাদ দিবো আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে। কারণ এই কাজের ৯০ শতাংশ তাদের উপর ছিল। তারাও এটা নিষ্ঠার সাথে করেছেন। সাথে নতুন যারা বাজারে যুক্ত হচ্ছে তাদেরকেও জানিয়ে দিচ্ছেন।

তৃতীয়ত ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেট সাংবাদিকদের। কারণ তারা এই বিষয়টি নিয়ে লিখে বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাই আমি বিএসইসির কাছে অনুরোধ রাখবো তাদেরকে যেন এক সময় সম্মানিত করা হয়। যারা অনলাইন মডিউলের মাধ্যমে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করেছেন তাদেরও যেন সম্মানিত করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ