ArthoSuchak
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘২০ বছরে মাথাপিছু আয় বাড়বে সাড়ে ৬ গুন’ 

আগামী ২০ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বর্তমানে আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার। যা ২০৪১ সালের মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকারের আগামী ২০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্য তুলে ধরেন। এ ২০ বছরব্যাপী রূপকল্প তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, রপকল্প ২০৪১ চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।এগুলো হলো, সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ, বিকেন্দ্রীকরণ ও সক্ষমতা বিনির্মাণ। প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে জনগণ সম্মিলিতভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ শতাংশে নেমে আসবে। আর ২০৪১ সালে হতদরিদ্রের হার কমে দশমিক ৬৮ শতাংশ হবে, যা বর্তমানে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০৪১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এই হার বর্তমানে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।বর্তমানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা ২০৩০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে জিডিপির ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ২০৪১ সালে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৪৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

অন্যদিকে বর্তমানে মোট রাজস্বের পরিমাণ জিডিপির ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সেটি ২০৩০ সালে বেড়ে ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশ হবে। আর ২০৪১ সালে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ দাঁড়াবে জিডিপির ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে ২১ কোটি হবে। তখন মানুষের গড় আয়ু ৮০ বছরে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। শিশুমৃত্যুর হার ২৪ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

জিইডির সদস্য শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, এটি হলো মোটাদাগে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথচিহ্ন। কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি জানান, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে, তা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ঠিক করা হবে। তবে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়, একটি উন্নত জাতি হিসেবে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রার মূল ভিত্তি হবে এই চার স্তম্ভ। এই স্তম্ভগুলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করা, অধিক সংখ্যক মানুষকে সরকারি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। যে সেবাসমূহ তারা পেয়ে থাকে মানগত দিক হতে সেগুলোর আরো উন্নতি নিশ্চিত করা। কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে এবং কে তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করবে- এ ব্যাপারে সকল বয়স্ক নাগরিকগণ স্থায়ীভাবে তাদের পছন্দ জ্ঞাপন করতে পারবেন। এছাড়া প্রশাসনিক কাঠামোর নিম্ন স্তরের (সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ছাড়াও বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন) জনগণ যাতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পর্যাপ্ত কর্তৃত্ব (ক্ষমতা) ও সম্পদ (অর্থ) সুবিধা পায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীবৃন্দ যাতে আরো ভালোভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এজন্য তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।

বলা হয়, এই চারটি স্তম্ভের সম্মিলন দেশকে ২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, যখন বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ এবং এর মাথাপিছু আয় হবে ২০১৯’র ইউএস ডলারের মূল্যে ১২৫০০ ডলার বা ততোধিক।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আগামী দিনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করাই হবে চ্যালেঞ্জ। এ জন্য অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন হবে, যা দরিদ্র মানুষের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করাসহ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষার মতো সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী নিশ্চিত করবে। দারিদ্র্য নিরসনে মানব উন্নয়নের জন্য স্বাক্ষরতার হার শতভাগ, ১২ বছর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং সাশ্রয়ী মূল্য চিকিৎসাসুবিধা ও স্বাস্থ্যবিমা স্কিম নিশ্চিত করতে কর্মসূচি নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ