'রাগ না ভাঙলে আত্মহত্যার হুমকি দিতেন সালমান শাহ' 
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘রাগ না ভাঙলে আত্মহত্যার হুমকি দিতেন সালমান শাহ’ 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ। অল্প দিনের ক্যারিয়ারে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বহু সুপারহিট চলচ্চিত্র। তবে হুট করেই সবাইকে কাঁদিয়ে কোন এক সকালে না ফেরার দেশে পারি জমান সবার জনপ্রিয় এর তারকা।

তার মৃত্যু নিয়ে ছিলো বেশ রহস্য। অনেকেই মনে করে ছিলেন তাদের প্রিয় নায়ককে খুন করা হয়েছে। আবার আরেক পক্ষের দাবি খুন নয় বরং আত্মহত্যা করে ছিলেন সালমান। অবশেষে এই রহস্যের জাল ছিন্ন হলো।

শাবনূরের সঙ্গে সখ‌্যতা, সামিরার সঙ্গে কলহ, মাত্রাতিরিক্ত আবেগ, সন্তান না হওয়া ইত্যাদি কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ।

গত  সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

এসময় জানানো হয়, বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুত ঝগড়া মিটমাট করতে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখতেন সালমান শাহ। এতেও রাগ না ভাঙলে বন্ধুদের আত্মহত্যার হুমকি দিতেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সালমান শাহ’র বন্ধু সুমিত রহমানের জবানবন্দির ভিত্তিতে বনজ কুমার জানান, গুরুগৃহ ক্যাডেট কলেজ কোচিং থেকে সালমানের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব। সালমান শাহ তার বন্ধুদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখতেন। তিনি খুবই আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অনেক জেদ করতেন। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মান অভিমান করতেন। বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুত ঝগড়া মিটমাট করতে নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখতেন। এতেও রাগ না ভাঙলে বন্ধুদের আত্মহত্যা করার ভয় দেখাতেন সালমান শাহ।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সালমান শাহ সুপারস্টার হওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন তিনবার। পিকনিকের সব খরচ তিনি একাই বহন করেছিলেন।

সালমান শাহ’র বন্ধু নাজমুল হুদা ওরফে মুক্ত, রাকিব উদ্দিন খান, মোখলেসুর রহমান ওরফে ভুট্টো জবানবন্দিতে তার সম্পর্কে একই কথা জানান।

সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআই’র প্রধান জানান, ১৯৯০ সালের ১২ জুলাই চিটাগাং ক্লাবে সামিরার সঙ্গে পরিচয় হয় সালমান শাহ’র। তখন তিনি (সামিরা) ‘ও’ লেভেলের পরীক্ষা দিতে ঢাকা আসেন। সামিরা তার ফুপুর বাসায় ওঠেন। তখন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৯০ সালে সামিরার সঙ্গে ফোনে কথা বলা নিয়ে মায়ের সঙ্গে সালমান শাহ’র কথা কাটাকাটি হয়। সেসময় আত্মহত্যা করার জন্য ৯০টি ইনকটিন ট্যাবলেট খান।

এরপর, ১৯৯১ সালের ২০ নভেম্বর কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির সেটে বসে সামিরাকে নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। আত্মহত্যা করার জন্য তখন তিনি স্যাভলন খেয়ে ফেলেন। তখন মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে তাকে ওয়াশ করানো হয়।

সালমান শাহর বন্ধু মুস্তাক ওয়াজ তার জবানবন্দিতে বলেন, এফডিসিতে জানাজার নামাজ পড়া শেষে সালমানের বাবা তাদের (বন্ধুদের) বলেন, ‘ইমন যা করতে চেয়েছিল, তাই হলো।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে ঢাকার বাসায় নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ