ArthoSuchak
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন কমান্ডার আব্দুর রউফ

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃতী সন্তান ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার মরহুম আব্দুর রউফ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কমান্ডার আব্দুর রউফসহ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছেন সরকার। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি এই কৃতী সন্তানকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।

কমান্ডার আব্দুর রউফ ১৯৩৩ সালের ১১ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আবদুল লতিফ ছিলেন ভৈরব পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক (১৯৫১-৫২), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-৫৪) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৫-৫৬)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ পাশ করার পর শিক্ষতায় যোগ দেন। ১৯৬১ সালে বি.এড পাস করার পর উপ-অধ্যক্ষ হিসেবে ঢাকার শাহীন স্কুলে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে যোগ দেন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় স্বাধীন বাংলা আন্দোলনের সাথে জড়িত হন এবং ১৯৬৮ সালে একই কারণে গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১৪ মাস কারাগারে থাকার পর ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে মুক্তি পান।

এরপর তিনি নরসিংদী কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তার অবদান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের তরুণদের নিয়ে যে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়েছিল সেই বাহিনীর তিন-সদস্যবিশিষ্ট পরিচালকমন্ডলীর তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য।

স্বাধীনতার পর পুনরায় ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং নৌবাহিনী পুনর্গঠনে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৭৩ সালে তিনি কমান্ডার পদে উন্নীত হন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে কারারুদ্ধ করেন। ১৯৭৬ সালে কারামুক্তির পর তিনি চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে গণফোরাম গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও আমার নাবিক জীবন’, ঐতিহাসিক পটভূমিতে লেখা ‘কর্বট কন্যা’সহ ১২টিরও বেশি জনপ্রিয় গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন আব্দুর রউফ।

কমান্ডার আব্দুর রউফ ৮২ বছর বয়সে ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি বক্ষব্যাধি রোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের দিল্লীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে মৃত্যুর দুইদিন আগে দেশে এনে তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ছিলেন দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর মেয়ে গিতালী হাসান দেশের একজন জনপ্রিয় লেখক।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ