ArthoSuchak
শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দেশে ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছে বাল্যবিবাহ

দেশে হরদমে চলছে বাল্যবিবাহ। সরকারের কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না। বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে ভাঙতে ইউএনও সাথে পুলিশের অভিযোনে বিয়ে ভাংলেও তা গুটিকয়েক। হয়তো ১০০টি বাল্যবিবাহের মধ্যে পুলিশের অভিযানে দু’একটি পন্ড হয়। দেশে প্রকাশে বা গোপনে বিভিন্ন ভাবে হয়ে যাচ্ছে বাল্যবিবাহ। বিবিএসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে দেশে ৫০ শতাংশের ওপরে হচ্ছে বাল্যবিবাহ।

আজ সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাসটার সার্ভে (এমআইসিএস) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ মেয়ের বাল্যবিবাহ হচ্ছে। যার মধ্যে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৫ বছরের থেকেও কম বয়সে। আর ৩২ দশমিক ৯ শাতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

গত সাত বছর আগে ২০১২ সালে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল বাল্যবিবাহ। সেই অনুযায়ী সাত বছরে শিক্ষিতের হারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কমেনি বাল্যবিবাহ। সাত বছরে কমেছে মাত্র শূণ্য দশমিক ৯ শতাংশ।যা সরকারের লক্ষ অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ সম্পর্কে মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল অর্থসূচককে বলেন, এখন পর্যন্ত যে হারে বাল্যবিবাহ বেড়ে চলেছে এবং কমছে না। তাতে আমাদের সন্দেহ সরকার যে ২০৪১ সালে মধ্যে বাল্য বিবাহ বন্ধের যে লক্ষমাত্রা নিয়েছে তা কমবে কি না?

তিনি বলেন, সরকার একটি বিশেষ ধারা করেছে। যেটা করে সরকার জনগনকে এই ইংগিত দিয়েছে যে, বাল্যবিবাহ যদি বিশেষ কারণে ঘটে। তাহলে সেখানে তাদের কোন ধরনের জবাবদিহি করতে হবে না। তাছাড়া নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না বলে, মা-বাবা অনেক সময় মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। নারীর অবস্থানের যদি পরিবর্তন না হয়। নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি যদি সামাজে এবং পরিবারে প্রতিষ্ঠিত না হয় এবং রাষ্ট সেটাকে দৃঢ় ভাবে রক্ষা করতে চেষ্টা না করে তাহলে বাল্যবিবাহ কমবে না।

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সরকার নতুন করে আইন করেছে। সরকারি-বেসরকারি অনেক কর্মসূচি আছে। বাল্যবিবাহের প্রতিরোধও কিন্তু বাড়ছে। সরকারের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর ১০টি জেলায় প্রতিরোধের ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। অধিদপ্তর বলছে, জেলাগুলো বাল্যবিবাহের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বাবা-মায়েরা বিয়ে দিয়ে হাঁপ ছাড়তে চান। মানসিকতা ও পরিস্থিতি প্রতিকূল। মেয়েদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ কম।

জেলাগুলোতে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, আইন-কর্মসূচি আর প্রতিরোধ সত্ত্বেও কীভাবে সামাজিক মনোভাব আর পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতা জিতে যাচ্ছে।

আরেক মানবাদিকার কর্মী ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, অভিভাবকদের লক্ষ্য মেয়েদের বিয়েতেই আটকে আছে। বেশ কিছু সামাজিক কারণে মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের মনে বড় স্বপ্ন নেই। পড়াশোনা বন্ধ করলে মেয়েদের জন্য ভালো কাজের সুযোগও নেই।

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সরকার কাজি (বিবাহ নিবন্ধক) ও জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্কুল-কলেজে মেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির একটি উদ্দেশ্য বাল্যবিবাহ কমানো। জাতীয় হেল্পলাইন সেন্টারের ১০৯ নম্বরে ফোন করে বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সাহায্য চাওয়া যায়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের এমন অনেক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসূচি আছে। কর্মসূচি আছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থারও। কিন্তু সামাজিক মনোভাব আর পরিস্থিতির অচলায়তনে ধাক্কা দেওয়া কঠিন হচ্ছে।

অনেক জায়গায় দেখা যায়, পুলিশ এসে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মুচলেকা দিয়ে বলা হয় ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। কিন্তু পরের দিনই দেখা যায় অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন।

এছাড়া অনেক জায়গায় দেখা যায়, গভীর রাতে এলাকার কোনো মাওলানা বা কাজিকে ডেকে নিবন্ধন ছাড়া অথবা ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দেখিয়ে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হয়। ভুয়া জন্মসনদ সস্তায় পাওয়া যায়। নোটারি পাবলিকের কাছ থেকে বয়সের ভুয়া হলফনামা করিয়েও বিয়ে হচ্ছে। কখনো কাগজপত্রই থাকছে না। ইদানীং মেয়েকে গোপনে আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এমন ঘটনার গোনাগাঁথা নেই।

সমাজের প্রবলতর মনোভাব বাল্যবিবাহের পক্ষে। প্রথা ও রীতিনীতির ঝোঁক সেদিকেই। আছে নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো প্রতিকূল পরিবেশের বাধা। শিক্ষা-সচেতনতারও অভাব আছে। একাধিক গবেষণা বলছে, ভুয়া জন্মসনদ আর কাজির কারচুপির সাহায্যে অভিভাবকেরা অনায়াসে বিয়ে দিচ্ছেন। ধরা পড়লে কিছু সাজা হচ্ছে কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলে তা অবৈধ বা বাতিল হচ্ছে না। টিকে থাকছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ