ArthoSuchak
শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে সমস্যা কমবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

শহরের সমস্যা সমাধানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়িত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজ রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও আবাসন শিল্প সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ‘মুক্ত আকাশ’ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিউচার প্ল্যানিং অব আরবান ট্রান্সপোর্টেশন ইন ঢাকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিলেটের বিশেষ দায়িত্ব সিলেটেই শেষ করতে হবে, রংপুর বিভাগের দায়িত্ব রংপুরে করতে হবে। এটি যদি আমরা সাহসের সাথে করতে পারি তাহলেই এই সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করেও অনেকটা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের রেল স্টিমারের অফিস করা হয়েছিল বরিশাল ও চট্টগ্রামে, কাজ হয়নি। কর্তাব্যক্তিরা সবাই ঢাকায় বসে থেকে কাজ করতে চান। শুধু অফিস বিকেন্দ্রীকরণ করলে হবে না, অফিসের যে মূল বিষয় ফান্ড বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে, অর্থনীতিকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।এগুলো করতে পারলেই শহরের সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্ল্যানিং বাস্তবায়নে আমরা অনেকটাই দুর্বল। প্ল্যানিং করি কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করতে পারি না। সকলের সহযোগিতা নিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি জানান।

এম এ মান্নান বলেন, গণতন্ত্রকে সম্মান করতে গেলে গণতন্ত্রের কাঁটাও সহ্য করতে হবে। রোড জ্যাম গণতন্ত্রের জন্য কাঁটা। এগুলোকে সমন্বয় করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, নিজেদের প্ল্যানিং আমাদের নিজেদের করা দরকার, কিন্তু সেটাও আমরা করতে পারি না। কারণ আমরা ঋণ নেই এতেও কিছু কথা বাত্রা আসে। এটা এইভাবে করতে হবে আমাদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে। আমাদের থেকে পরিষ্কার করে নিতে হবে, না হলে আমরা পারবো না। এমনও বলে যেটা না বললেও বোঝা যায় তোমাদের কিছু বিশেষায়িত কনসালটেন্ট আছে তারা এগুলো পারবে না।

সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, সামান্য দূরত্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেও মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও সময়ের অপচয় এখন স্বাভাবিক। হাটার গতির ন্যায় ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে যানবাহনের গতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২ বছর আগেও ঢাকায় যানবাহনের এই গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। সাম্প্রতিককালের গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যানজটের কারণে ঢাকা মহানগরীতে দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নিদারুণ অপচয় ঘটছে যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। নিঃসন্দেহে একটি দেশ বা শহরের জন্য এটি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়।

বক্তারা আরও বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, বিদ্যমান যানবাহনের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে বিপুল সংখ্যক নতুন নতুন যানবাহন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা ও সংখ্যা থেকে যাচ্ছে সেই আগের মতোই। সরকারের ভিশনারি প্রকল্প সমূহ বিশেষ করে, মেট্রোরেল স্থাপনের কাজ চলমান থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ অবর্ণনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান পরিস্থিতি উত্তরণে যে সকল পরিকল্পনা বা সুপারিশ গৃহীত হয়েছে বা হচ্ছে তার বেশির ভাগই স্বল্পমেয়াদী ও অদূরদর্শী, সমন্বিত পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান নয়। সারা দেশে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই যাত্রীসেবার মানও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, বেড়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনায় ধরণ ও সংখ্যা।

রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি ও মুক্ত আকাশের উপদেষ্টা সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী এস এম খোরশেদ আলম, মুক্ত আকাশের সম্পাদক ও প্রকাশক প্রকৌশলী মো. সামসুল আলম প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরবান হ্যাবিট্যাট কনসালট্যান্টস এর চেয়ারম্যান স্থপতি পরিকল্পনাবিদ তানউইর নেওয়াজ।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ