পুঁজিবাজারে আসতে রবির দুই শর্ত
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুঁজিবাজারে আসতে রবির দুই শর্ত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা পুঁজিবাজারে আসতে দুটি শর্ত দিয়েছে। কোম্পানিটি বলেছে,  এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল তাদের পক্ষে পুঁজিবাজারে আসা সম্ভব।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


শর্ত দুটি হচ্ছে- মোবাইল কোম্পানির টার্নওভারের উপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার অথবা এই করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে- তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানির করপোরেট কর হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ।

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি, শনিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানিটি এই দাবি জানিয়েছে। রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ, গত অর্থবছর পর্যন্ত মোবাইল কোম্পানির টার্নওভার (মোট পণ্য ও সেবা বিক্রির পরিমাণ) এর উপর দশমিক ৭৫ শতাংশ কর ছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এটি ১৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়।

অন্যদিকে মোবাইল কোম্পানির ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকলে ৪৫ শতাংশ এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ কর দিতে হয়। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভুত মোবাইল কোম্পানির মধ্যে কর হারের ব্যবধান ৫ শতাংশ। কিন্তু মোবাইল কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির (সিগারেট কোম্পানি ব্যাতিত) ক্ষেত্রে কর হারের ব্যবধান ১০ শতাংশ। তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানিকে ১০ শতাংশ কর সুবিধা দিতে হলে তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানির করের হার ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রবির পক্ষ থেকে কর সংক্রান্ত এই দুটি দাবি জানিয়ে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে ব্যবসার যে অবস্থা তাতে করের বিষয়গুলো পুনর্মুল্যায়ন করা না হলে তাদের পক্ষে বাজারে আসা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রবির প্যারেন্টকোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা গত শুক্রবার রবির আইপিওতে যাওয়ার বিষয়টিতে সম্মতি দিয়েছেন। এর অর্থ রবি যদি পুঁজিবাজারে যাওয়া যোখ্তিক ও সুবিধাজনক মনে করে, তাহলে যেতে পারে, তাতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু পুঁজিবাজারে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি একান্তভাবেই রবির নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে তারা সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। কোম্পানির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমেদ। এছাড়া রবির মার্কেটিং পলিসি নিয়ে কথা বলেন চিফ এন্টারপ্রাইজ বিজনেস অফিসার আদিল হোসেন নোবেল। আজকের অনুষ্ঠানে গেলো বছরের রবি তাদের সার্বিক ব্যবসায়িক চিত্র তুলে ধরে। ২০১৯ সালে সরকারের অতিরিক্ত কর আরোপের পরেও রবির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এ সময় তাদের মোট রাজস্বের পরিমাণ ছিলো ৭ হাজার চারশত একাশি কোটি টাকা। ৩৮.৫ শতাংশ মার্জিনসহ ইবিআইটিডিএ’র পরিমাণ ২ হাজার আটশত আশি কোটি টাকা বলে জানান রবি কর্তারা। গেলো বছরে রবির মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার চারশত একুশ কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ২ হাজার সাতশত বাষট্টি কোটি টাকা।

সরকার কর্তৃক করপোরেট কর ৪৫% ধার্য করা হলেও রবির কার্যকর করের পরিমাণ ৯০% ছিলো বলে জানান মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। ন্যূনতম কর ০.৭৫% থেকে বাড়িয়ে ২% করা, সিম করের পরিমাণ দ্বিগুন করা, স্মার্টফোনের সম্পূরক শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৫% এবং মোবাইল সম্পূরক শুল্ক ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার ফলে আর্থিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও ঠিকই লাভ করে নেয় দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি।

গেলো বছরে রবির ২১ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছে যার মাধ্যমে তাদের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যা দেশের মোট ব্যবহারকারীর ২৯.৬%। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ১৩ লাখ বলে জানান মাহতাব আহমেদ। রবির প্রধান আরো বলেন, দেশের প্রতি ৭ জন মোবাইল অপারেটর বদলানোর মধ্যে ৫ জনই রবির সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের ওপর আলাদাভাবে কাজ করায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা অলিভার ওয়াইমেনের মতে বৈশ্বিক মানের টেলিকম কোম্পানির মর্যাদা পেয়েছে মালয়েশিয়া ভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি রবি।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ