মোস্তাফিজ আমিন ফের ভৈরব প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের প্রেসক্লাবের ২০২০-২০২১ বর্ষের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে সাংবাদিক মোস্তাফিজ আমিন আবারও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০১৮-২০১৯ বর্ষেও একই পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি ও এনটিভি অনলাইন পোর্টালের ভৈরবের স্টাফ রিপোর্টার। দেশের একমাত্র অর্থনৈতিক নিউজ পোর্টাল অর্থসূচকের ভৈরব ও কুলিয়ারচরের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

১৯৯৪ সালে স্থানীয় পত্রিকা সাপ্তাহিক গৃহকোণের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করা মোস্তাফিজ আমিন কাজ করেছেন পাক্ষিক ভৈরব, সাপ্তাহিক মফলস্বলচিত্র পত্রিকায়। ১৯৯৯ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক নিরপেক্ষ অরুণিমা। ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলায় পত্রিকাটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

২০০৪ সালে কাজ শুরু করেন একই হাউজের দুই মিডিয়া এনটিভি আর আমারদেশ পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি হিসেবে। ২০০৬ সালে তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এনটিভি “স্টাফ রিপোর্টার” হিসেবে পদোন্নতি দেয়। দৈনিক আমারদেশ পত্রিকাটির প্রকাশনা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কয়েক বছর প্রিণ্ট মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে কাজ করছেন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায়।

সাহিত্য প্রকাশনা: ১৯৮৭ সালে দেয়াল পত্রিকা শিশির ও ১৯৮৮ সালে চাঁদের হাট। ১৯৮৮ সালে কবিতাগুচ্ছ চন্দ্রমা। ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী ককিতাগুচ্ছ উচ্ছেদ। ১৯৯১ সাল থেকে ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা অরুণিমা। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মাসিক অরুণিমা সম্পাদনা করেন।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড: ১৯৮৩ সালে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন চাঁদের হাট, ভৈরব শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়ে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে অংশ নেন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পাদন করেন। চাঁদের হাট উৎসব ৯০ নামে সাতদিন ব্যাপী স্থানীয়ভাবে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই সংগঠন থেকে মঞ্চস্থ করা নাটক বকুলপুরের স্বাধীনতা, সুলেমানেরা কথা হয়, কবর, কাবলিওয়ালা, ভেজাল, ছুটি ইত্যাদি নাটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার রেবতী মোহন বর্মণ অঞ্চলের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ভৈরব থিয়েটারের একজন নিয়মিত সক্রিয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। সে সময় স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী নাটক মঞ্চায়নে সংগঠনটি এই অঞ্চলে খ্যাতি অর্জন করে। এই সংগঠনটির মাধ্যমেই এই অঞ্চলে পথনাটক শুরু হয়।

ভৈরব থিয়েটারের আলোচিত নাটক স্বৈরাচারের দুর্ভাবনা বেশ খ্যাতি অর্জন করে। দর্শক নন্দিত এই নাটক মঞ্চায়নের জন্য তিনিসহ সংগঠনের নাট্যকর্মীরা তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের চক্ষুমূলে পরিণত হন। দুইবার তারা পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হন। বেশ কয়েক মাস ভৈরবে তাদের নাটক মঞ্চায়নে নিষেধাজ্ঞা জারী করে স্থানীয় প্রশাসন।

তবে তারা থেমে থাকেননি। নিয়েধাজ্ঞার সময়গুলি তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাশের উপজেলা নরসিংদীর রায়পুরা ও নিজ জেলার কুলিয়ারচরের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় নাটক মঞ্চায়ন করেন। তাঁর অভিনীত ভৈরব থিয়েটারের নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে স্বৈরাচারের দুর্ভাবনা, ক্র্যাচ, বড়ডারে ধর, চাকা, মনা পাগলা ইত্যাদি। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে তাঁর রচনা ও নির্দেশনায় “মন্টুদের কথা” নাটকটি বেশ সুনাম অর্জন করে। ২০০৭ সাল থেকে তিনি ভৈরব থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১৯৯০ সালে তিনি গ্রাম থিয়েটারের শিশু-কিশোর নাট্য সংগঠন ভৈরব লিটল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিজেকে একজন আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৭ সালে “আমরা ক’জনা” নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে আবৃত্তি চর্চার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় তাঁর। সে সময় পিযূষ বন্দোপাধ্যায়, শিমূল মুস্তফা, তৌফিক হাসান ও বুলবুল শফিকীর সান্নিধ্য লাভ করেন। পরে ১৯৯৪ সালে অধ্যাপিকা সাজেদা বাসেত, আরফিন রহমান ঊর্মি ও সায়মন তারিকদের সমন্বয়ে গঠন করেন “ভৈরব আবৃত্তি পরিষদ”।

বর্তমানে তিনি ভৈরব টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি ভৈরব উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী রওশন আরা বেগম লাকী ও দুই পুত্র রওনক মোস্তাফিজ অনন্ত এবং রিদওয়ান মোস্তাফিজ আনন্দকে নিয়ে তাঁর সংসার। বড় ছেলে রওনক মুস্তাফিজ অনন্ত ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারে এবং ছোট ছেলে রিদওয়ান মুস্তাফিজ আনন্দ ভৈরব সরকারি কেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।