ArthoSuchak
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘অনেক কাজ’, তাই তথ্য হালনাগাদের সুযোগ হয় না ডিএসইর!

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর কর্মকাণ্ড নিয়ে যেন প্রশ্নের শেষ নেই। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ডিএসই, ক্ষোভ হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের। অর্থবছর শেষ হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে আট মাস, তবুও এখনো হালনাগাদ করা হয়নি ডিএসইর ওয়েবসাইটে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ সংক্রান্ত তথ্য।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


ডিএসইর ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখনো হালনাগাদ করা হয়নি ৩৪টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তথ্য। যা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের মোট ৯২ শতাংশ। অথচ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অর্থবছর শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন ২০১৯ সালে। এর মধ্যে ফান্ডগুলো লভ্যাংশ ঘোষণার পর তা বিতরণও করে ফেলেছে কয়েক মাস আগে। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপকদের পক্ষ থেকে লভ্যাংশ বিতরণের  এই তথ্য ডিএসইকেও জানানো হয়েছে ঠিক সময়ে। কিন্তু ঠিক সময়ে তথ্য হালনাগাদে ডিএসই ব্যর্থ হয়েছে। এবং তথ্য জানানোর এতোটা সময় পেরিয়ে গেলেও ডিএসইর পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

উল্লেখ, এর আগেও ডিএসইর বিরুদ্ধে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে অহেতুক বিলম্ব, ভুল তথ্য পরিবেশন, তথ্য গোপনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ডিএসই হচ্ছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার এবং সবকিছুই সফ্টওয়ারভিত্তিব। সেক্ষেত্রে ডিএসই কেনো তথ্য হালনাগাদে এতোটা পিছিয়ে থাকবে। তবে কি ডিএসই তার কাজে অহেতুক বিলম্ব করছে?

ডিএসইর দিকে এমন প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, একটি কোম্পানি বা ফান্ড যার লভ্যাংশ ঘোষণাসহ বিতরণ হয়ে গেছে এবং অর্থবছর শেষ হয়ে আরও আট মাস পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ তারা এখনো তথ্য হালনাগাদ করেনি। আর চলতি অর্থবছর শেষ হতে বাকি কয়েক মাস। এতে করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ কোনো বিনিয়োগকারী ফান্ডে বিনিয়োগ করার পূর্বে তার সর্বশেষ অর্থবছরের লভ্যাংশের তথ্য জানতে পাচ্ছে না। এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও সঠিক দাম পাচ্ছে না।

সমস্যা আরও বেড়েছে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণার পর এ সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। ফান্ডের বিনিয়োগ নীতিমালার সঙ্গে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত অনুসারে, বিশেষ তহবিলে কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার জন্য যোগ্য মেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বশেষ ৩ বছর কমপক্ষে ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশের রেকর্ড থাকতে হবে। কিন্তু ডিএসইর ওয়েবসাইটে সর্বশেষ বছরের লভ্যাংশ সংক্রান্ত কোনো তথ্য না থাকায় বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারছেন না কোন ফান্ড টি যোগ্য, কোনটির ইউনিট কেনা যাবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তথ্য হালনাগাদের বিষয়টি ডিএসইর রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট করে থাকে। আমি তাদের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে আগে কোম্পানির তথ্য হালনাগাদ করা হয়, পরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তথ্য।

তিনি আরও বলেন, এজন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর তথ্য এখনও আপডেট হয়নি। তবে কোম্পানির তথ্য আপডেট করার কাজ চলছে। কোম্পানির তথ্য আপডেট করা হয়ে গেলে খুব শীঘ্রই সেগুলো আপডেট করা হবে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে এমন মন্তব্যে বাজার সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ডিএসইর কাজ তো এমন হওয়া উচিত না। ডিএসই কেনো সকল কোম্পানির তথ্য একসাথে হালনাগাদ করবে। বা পরে করার জন্য রেখে দিবে। তাদের তো জনবল কম নয়। বা এটা কোনো নিয়ম না যে আগে কোম্পানির তথ্য হালনাগাদ করে পরে মিউচ্যুয়াল ফান্ড করতে হবে। এতে তো বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আর বলেন, বিনিয়োগকারীর স্বার্থে এবং ডিএসইর কাজের স্বচ্ছতা হচ্ছে কোনো কোম্পানি থেকে তথ্য আসলে সেটা ডিএসই ওয়েবসাইটে সাথে সাথেই হালনাগাদ করা। যাতে করে কোনো শেয়ার বা ফান্ড কেনা ও বিক্রির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী জেনে বুঝে করতে পারে। এবিষয়ে ডিএসইকে আর স্বচ্ছ হতে হবে। ইতোমধ্যে ডিএসই কর্মকাণ্ড অনেক প্রশ্নবিদ্ধ। এবং কাজের স্বচ্ছতারও প্রশ্ন রয়েছে। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও নজরদারি বাড়াতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ