ArthoSuchak
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ

গাজীপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে ইয়াসমিন বেগম (৪০) এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তবে, নিহতের স্বজনদের অভিযোগ পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ইয়াসমিন বেগম (৪০) ভাওয়াল গাজীপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

প্রতীকী ছবি

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থতাজনিত কারণে ওই গৃহবধূ মারা গেছেন বলে দাবি করছে পুলিশ। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের ছেলে ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ভাওয়াল গাজীপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ তার বাবাকে খোঁজ করে। না পেয়ে মা ইয়াসমিন বেগমকে ধরে নিয়ে যায়। মা পুলিশের সঙ্গে যেতে না চাইলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এরপরও মায়ের মোবাইলে ফোন করলে পুলিশ ফোন ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় মাকে মারধর করার শব্দ শুনতে পান তিনি।

নিহতের ছেলের দাবি, রাত ১১টার দিকে এক পুলিশ সদস্য তার মায়ের মোবাইল দিয়ে ফোন করে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে যেতে বলেন। পরে আবার ফোন আসে। তখন তাকে বলা হয়, তার মা অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি যেন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার মায়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। রাত একটার দিকে মায়ের লাশ পুলিশ তাকে দেখতে দেয়।

ইয়াছিন আরাফাতের অভিযোগ, ‘মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ মাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি মায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই।’

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০টা ১০ মিনিটে ইয়াসমিনকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার বুকে ব্যথা ও প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিল। পরে তার ইসিজিও করা হয়। লক্ষ্মণ থেকে প্রাথমিকভাবে বুঝা গেছে তিনি স্ট্রোক করেছেন।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়। একপর্যায়ে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান। হার্টঅ্যাটাকে তিনি মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের শরীরে বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যোগ করেন ওই চিকিৎসক।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ