তাপসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো রোজিনার
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তাপসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো রোজিনার

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পালের সঙ্গে জুটি হয়ে একসময় কলকাতায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঢাকাই ছবির নায়িকা রোজিনা। কলকাতায় ‘রূপবান’ ছবিতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তাঁরা। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্চও মাতিয়েছেন তারা দুজনে। প্রিয় সহশিল্পীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ নায়িকা রোজিনা। তাপস পালের আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

কলকাতায় গেলে জমে উঠত রোজিনা-তাপসের তুমুল আড্ডা। সর্বশেষ দুই বছর আগে তাদের দেখা হয়েছিল। তবে হোয়াটসঅ্যাপে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাপসের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না দেশের অগ্রজ এ অভিনেত্রী।

ভারতের মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আজ মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তাপস পাল (৬১)।

তাপসের মৃত্যুর পর রোজিনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাপসদা যেমন ভালো অভিনয়শিল্পী, তেমনি ভালো মানুষ। ঘুম থেকে উঠেই দাদার মৃত্যুর খবর শুনেছি। আসলে আমাদের সম্পর্কটা এমন ছিল যে খবরটা শোনামাত্র কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। যেখানেই থাকুন দাদা, যেন ভালো থাকেন; আপনারা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

স্মৃতিচারণা করে রোজিনা বলেন, তাপসদা আমাদের চেয়ে সিনিয়র শিল্পী। তিনি আমাদের বেশ আগেই চলচ্চিত্রে এসেছেন। আমার সেই সময় দাদা দুই বাংলায় তুমুল জনপ্রিয় নায়ক। বলা যায়, আমাদের চোখে আইকন। সে সময় আমি একটি চলচ্চিত্রে দাদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। দাদার সঙ্গে আমি ‘রূপবান’ ছবিতে প্রথম কাজ করি। তখন তিনি তুমুল জনপ্রিয় নায়ক দুই বাংলায়। একই সময়ে ‘কুচবরণ কন্যা’, ‘অবিচার’সহ পাঁচটি ছবিতে কাজ করি। দুই বাংলায় আমাদের জুটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে কলকাতার স্টেজ শোগুলোতেও আমরা দাওয়াত পেতে থাকি। পশ্চিমবঙ্গের মঞ্চগুলোতে আমরাই ছিলাম মূল আকর্ষণ।

রোজিনা আরো বলেন, দাদা একদিন তাঁর বাসায় আমাকে দাওয়াত করে খাওয়ান। তিনি আমাদের জন্য সরষে ইলিশ রান্না করেছিলেন। আর বারবার আমাদের দিকে দেখছিলেন। অনেকটা লজ্জা পাচ্ছিলেন। একসময় বললেন, ‘আসলে তোমরা ঢাকার মানুষগুলো তো অনেক আপ্যায়নপ্রিয়। আমি তো তোমাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি।’ এটা আসলে দাদার উদারতার প্রকাশ।

রোজিনা আরও বলেন, আমি যখন দাদার সঙ্গে অভিনয় শুরু করি, তখন তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তবে কাজ করার সময় এটা আমার কাছে কখনো মনে হয়নি। তিনি খুব সহজে মিশে যেতে পারতেন।

আশি ও নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। মিষ্টি হাসিতে দর্শকের মন ভোলানো এই অভিনেত্রী ১৯৭৬ সালে ‘জানোয়ার’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

নায়ক তাপস পাল, মিঠুন, পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিমসহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত বহু অভিনেতার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন রোজিনা। সত্য সাহা পরিচালিত ‘রূপবান’ ছবিতে তাপস পালের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রোজিনা।

অন্যদিকে, ১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্ম নেন তাপস পাল। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। কলেজে পড়ার সময় নজরে পড়েন পরিচালক তরুণ মজুমদারের। মাত্র ২২ বছর বয়সে মুক্তি পায় তাপস পাল অভিনীত প্রথম ছবি ‘দাদার কীর্তি’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক হিট, সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। তাপস পাল অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে ‘সাহেব’, ‘গুরুদক্ষিণা’ ‘অনুরাগের ছোঁয়া’, ‘পারাবত প্রিয়া’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ অন্যতম।

তাপস পাল ‘সাহেব’ চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান ১৯৮১ সালে। বাংলার পাশাপাশি তাপস পাল অভিনয় করেছেন বেশ কিছু হিন্দি ছবিতেও। বলিউডের তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘অবোধ’ ছবিতে।

চলচ্চিত্রে দাপুটে পদচারণার পর যোগ দেন রাজনীতিতে। পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর লোকসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ ছিলেন তাপস পাল।

অর্থসূচক/এএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ