ArthoSuchak
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সালমানের ভাইয়ের সমালোচনার জবাব দিলেন সোহানুর রহমান সোহান

নব্বই দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয় সালমান শাহ’র। ১৯৯৬ সালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তার। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও অসংখ্য ভক্ত এখনো তাকে মনে রেখেছেন। তেমন ভক্তের একজন মো.  রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ খান)। সম্প্রতি প্রিয় নায়ক স্মরণে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করেছেন তিনি। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে অমর চিত্রনায়ক সালমান শাহর একটি ভাস্কর্য। এতে ভক্তরা খুশি হলেও আপত্তি তুলেছেন লন্ডনে অবস্থান করা সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী। এমন আপত্তির মুখে ভাস্কর্য নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন সালমানভক্ত রাশেদ খান।

তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আমি আবার বলছি হৃদয় দিয়ে সালমান খানকে ভালোবাসি। আমার উদ্যোগে তার পরিবার কষ্ট পেয়েছে জেনে আমিও কষ্ট পাচ্ছি। শিগগিরই গণমাধ্যম ডেকে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করবো। এখানে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নাই। কাউকে এ নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করতে দেব না।

বিষয়টি নিয়ে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, আমি বুঝতে পারছি সে (রাশেদ খান) হয়তো ভালোবেসেই মূর্তিটি (ভাস্কর্য) গড়েছেন কিন্তু পরিবারের মতামত নেওয়া দরকার ছিল। তাছাড়া শাহজালাল দরগা থেকেও এ ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে। সে কারণে সালমানের মা খুব মন খারাপ করেছেন। তাই রাশেদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম এটা ভেঙে ফেলতে। সে চাইলে এর নির্মাণে যে খরচ হয়েছিল সেটা আমরা দিয়ে দেবো। আমরাও চাই এখানে ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয়।

এরআগে বিষয়টি নিয়ে শাহরান চৌধুরী ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আপনি যদি সালমান শাহকে সত্যি ভালোবাসেন, তাহলে নিশ্চয়ই চাইবেন না তার কোনো ক্ষতি হোক, আপনার ভালোবাসার মানুষ কষ্ট পাক। ইসলাম কি আপনাকে অনুমতি দেয়, যে একজন মৃত মানুষের ভাস্কর্য বানালেন? রিসোর্ট বানান, এটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। একজন মৃত মানুষের ভাস্কর্য বানিয়ে স্মরণ করে রাখতে হবে কেন? তিনি আপনাদের বিনোদিত করেছেন, আর চাই না বিনোদন। যদি পারেন ভাস্কর্যটা নামাবেন।’

এ পর্যায়ে তিনি সালমান শাহর অভিষেক ছবির নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

এ ব্যাপারে সোহানুর রহমান সোহানের বক্তব্য- যারা আপত্তি তুলেছেন তাদের বুঝতে হবে মূর্তি আর ভাস্কর্য এক জিনিস নয়। যদি তাই হতো ধর্মভীরু এদেশে বঙ্গবন্ধু, কবি নরজরুল, লালন, হাছন রাজার ম্যুরাল বা ভাস্কর্য নির্মিত হতো না। মানুষ অনেক গভীর থেকে শ্রদ্ধা করে বলেই বিশেষ কিছু মানুষকে এভাবে স্মরণ করতে চায় বা করে। সালমান হচ্ছে সেই উচুস্থরের মানুষদের কাতারের যাকে কোটি ভক্ত মনে রেখেছে, তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করে। ভাস্কর্য সেই ভালোবাসার ফসল, এখানে কেউ পূজা দিতে যাবে না। মানুষের এতোটুকু বোধ অবশ্যই আছে। এটা একটা অহেতুক স্ট্যানবাজি ছাড়া আর কিছু না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে যখন সমালোচনা তুঙ্গে তখন একাধিক সালমান ভক্ত বলেছেন, পরিবার এখন যেভাবে ধর্মের আশ্রয় নিচ্ছে যখন সালমান অভিনয় করতো তখন তাদের এই উপলব্ধি কোথায় ছিল? তাছাড়া এখন যখন ছবিগুলো দেখানো হয় তার মানে পাপের মাত্রা বাড়তে থাকে। এই যদি একটা শিক্ষিত পরিবারের উপলব্ধি হয় তাহলে দেশ থেকে শিল্প-সংষ্কৃতি চর্চা উঠে যাবে। সালমান আজও বেঁচে আছেন ভক্তদের কারণে। আর সেই ভক্তের একটি কর্মকে তারা এভাবে হেয়জ্ঞান করতে পারে না। এটা অনৈতিক। আমরা চাইবো বরং ভাস্কর্যটি অক্ষুণ্ন রাখা হোক।

গাজীপুরের উলুখোলা থানার বীরতুল উত্তরপাড়ায় এ রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এর সামনেই ফাইবারে তৈরি সালমান শাহর ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। এটি তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী পলাশ।

ভাস্কর্যটি উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন সালমান শাহ অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, ‘সুজন সখী’ সিনেমার পরিচালক শাহ আলম কিরণ, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ (এম এ খালেক) সিনেমার নেপথ্য কুশীলব শিল্পী চক্রবর্তী, ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকী, সাইফুজ্জামান শিখর ও পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার প্রমুখ।

অর্থসূচক/এএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ