অর্থনীতিতে 'রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' পেলেন ড. শামসুল আলম
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অর্থনীতিতে ‘রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ড. শামসুল আলম

দেশের অর্থনীতিতে অসামাণ্য অবদানের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলমকে ‘রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ পুরস্কার প্রদান করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরডিএফ।

আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (আরডিএফ) কতৃক আয়োজিত ‘রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ প্রদান অনুষ্ঠানে তাকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগেও তিনি অর্থনীতিতে অসামাণ্য অবদানের জন্য একুশে পদকে ভুষিত হন।

২০০৯ সাল থেকে ১১ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন পরিকল্পিত অর্থনীতির রূপকারখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছরের অধ্যাপনা শেষে ২০০৯ সালের ১ জুলাই পেনশন ছুটিতে গিয়ে ড. শামসুল আলম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। পরিকল্পনা কমিশন গঠনের পর সদস্য হিসেবে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়লেন তিনি। ২০১৬ সালে তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যান। তার আগে ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ক্যাডার সার্ভিসের বাইরে প্রথমবারের মতো সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা অর্জন করেন।

ড.শামসুল আলমের হাত ধরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেগুলো এখন বাস্তবায়নাধীন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী তার প্রণয়ন করা দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (২০০৯-১১) সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করে ‘দিন বদলের পদক্ষেপ’ ২০১১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে বাংলাদেশের প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১) ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করেছেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে ড. আলমের প্রণয়ন করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও এখন বাস্তবায়নাধীন।এছাড়া এবার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও(২০২১-২০২৫) তার হাত দিয়েই হচ্ছে। দেশে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০১১-২০২১) ও সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র (২০১৫-২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে তার তত্ত্বাবধানে। ১০০ বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়ণের কাজ তার হাত দিয়েই শুরু হয়েছে। এর বাইরেও দায়িত্ব পালনকালে তার তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনায় এমডিজি অর্জন বিষয়ক ১৫টি এবং ৬৩টি মূল্যায়ন প্রতিবেদন, অধ্যয়ন ও গবষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে ড. শামসুল আলম ২০১৮ সালে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকনোমিক মডেলিং কর্তৃক বাংলাদেশে এই সময়ে ইকনোমিস্ট অব ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির ১৬তম বার্ষিক সম্মেলনে এই বছর তাকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সোসাইটি তাকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক-২০১৮ এ ভূষিত করেছেন। তার গবেষণা গ্রন্থ, পাঠ্যপুস্তকসহ অর্থনীতি বিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২টি। দেশে ও বিদেশে প্রকাশিত সম্পাদিত গ্রন্থ রয়েছে ১৮টি। দেশে ও বিদেশে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধ ৪৮টি।

এছাড়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফোরামে কৃষিতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্টিকুলার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ রহিমকে ‘রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও চার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করে আরডিএফ রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফোরাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. লুৎফুল হাসান। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. লুৎফান হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির কো-চেয়ার লুৎফর রহমান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ