ArthoSuchak
শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে মাহবুব তালুকদারের পঞ্চ ‘নি’ তত্ত্ব

অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য পঞ্চ ‘নি’ তত্ত্ব দিলেন বিভিন্ন সময় নানা বক্তব্য দিয়ে ও কর্ম সম্পাদন করে আলোচনায় থাকা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইটিআই ভবনে নির্বাচন কমিশনে সদ্য যোগ দেয়া উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তত্ত্ব দেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, আজ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। এই তিন বছরে আমাদের কমিশনের আছে অনেক অর্জন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্জন। আমি আজ অতীতের কোনো মূল্যায়ন করতে যাব না। এই মুহূর্তে আমি সামনের দিকে তাকাতে চাই। আগামী বাকি দুটি বছর যাতে কমিশনের অর্জনের পাল্লা ভারী হয়, সেটাই আমার প্রত্যাশা।

লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আমি ৫টি ‘নি’ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছি।

প্রথম ‘নি’ হচ্ছে ‘নিশ্চয়তা’-এটা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা। এ নিশ্চয়তার অর্থ ভোটার ও রাজনৈতিক দলের আস্থা সৃষ্টি।

দ্বিতীয় ‘নি’ হচ্ছে নিরপেক্ষতা’-নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান ও ভোট কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি। কমিশনের পক্ষে এই নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।

তৃতীয় ‘নি’ হচ্ছে ‘নিরাপত্তা’-এই নিরাপত্তা ভোটার, রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে নির্বাচনকালে কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা দরকার।

চতুর্থ ‘নি’ হচ্ছে ‘নিয়ম-নীতি’- নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে বিধি-বিধান পরিচালনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

পঞ্চম ‘নি’ হচ্ছে ‘নিয়ন্ত্রণ’-নির্বাচন অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। স্বনিয়ন্ত্রণই নির্বাচন কমিশনের মূল কথা।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়মনীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুতি রয়েছি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে যে অপরিমেয় ক্ষমতা দিয়েছে, পৃথিবীর খুব কম দেশের কমিশন, এমনকি ভারতের নির্বাচন কমিশনও এমন ক্ষমতার অধিকারী নয়। কিন্তু ক্ষমতা থাকলেই কেবল হবে না। ক্ষমতার প্রয়োগ না হলে সে ক্ষমতা অর্থহীন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতার কতটুকু প্রয়োগ করতে পেরেছে, তা সময়ই বিচার করতে পারবে।

ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ