ভৈরবে ১০ দিনব্যাপী একুশে বইমেলার উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১০ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু একুশে বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভৈরব বইমেলা পরিষদ আয়োজিত ২৩তম এই বইমেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সায়দুল্লাহ মিয়া, পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খীসা, অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, ভৈরব প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জাকির হোসেন কাজল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম বাকী বিল্লাহ।

ভৈরব বইমেলা পরিষদের সভাপতি আতিক আহমেদ সৌরভের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইমেলা পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফজলুল হক শাহেদ। তিনি তার বক্তব্যে জানান, এইবারের ২৩তম বইমেলাটি মুজিববর্ষ উদযাপনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু একুশে বইমেলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হলে আগে আমাদের প্রকৃত মানুষ হওয়ার ব্রত গ্রহণ করতে হবে। কারণ প্রকৃত মানুষ হওয়া ছাড়া বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে ভূমিকা রাখা যাবে না। আর প্রকৃত মানুষ হতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। একটি ভালো বই মানুষের মনের কালিমা দূর করে সেখানে আলোকবর্তিকা জ্বেলে দেয়।

তিনি এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসব একসাথে উদযাপনে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মাঝে উচ্ছাস দেখে বেশ আপ্লুত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে ষড়ঋতুর আবর্তে প্রকৃতি নব নব রূপে সাজে। আর এই সাজের প্রভাব পড়ে এদেশের সব বয়সী মানুষের মাঝে।

এইদেশে বাঙ্গালীসহ বহু ক্ষুদ্র জাতি নৃগোষ্ঠী মিলে মিশে বসবাস করে আসছে উল্লেখ করে এই সাংস্কৃতিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আরও বলেন, এই ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, উৎসব ও সংস্কৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে। এদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে টিকিয়ে রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা সায়দুল্লাহ মিয়া বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় ভাটা পড়ে। এর প্রভাব এসে পড়ে এই ভৈরবেও। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে এই বইমেলা শুরু হয়। এই দীর্ঘদিন এমন একটি আয়োজন নিয়মিতভাবে সুন্দর ও সূচারুরূপে করে যাওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ বলেন, একটা সময় ছিলো বইপ্রেমিরা টাকা জমিয়ে ঢাকার বইমেলা থেকে ২/৪টি বই কিনে আনতেন। কিন্তু ঢাকার বইমেলার অনুরূপ এখন এই বন্দরনগরী ভৈরবে। তাই যে কেউ ইচ্ছে করলেই বেশী বেশী বই কিনতে পারেন। গড়ে তুলতে পারেন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক গ্রন্থাগার। তিনি একটি ভালো বইকে একজন উত্তম বন্ধুর চেয়েও মূল্যবান বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব গড়লে জ্ঞানের সবগুলি শাখা প্রস্ফুটিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাজীবনে অপেক্ষায় থাকতাম কখন বাংলা একাডেমি চত্বরে প্রাণের বইমেলা শুরু হবে। পছন্দের বই কিনবো, হরেক রকম বই দেখবো। কর্মজীবনের ব্যস্ততায় বইমেলাকে খুব মিস করতাম। কিন্তু ভৈরব বইমেলা পরিষদ এমন একটি আয়োজন করে আমাকে নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়ার সুযোগটা করে দিলো। তিনি এই বইয়ের আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীকে উৎসর্গ করায় এবারে বইমেলার মহত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এইজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা বইয়ের পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার যে পসরা সাজিয়েছেন, তা এই এলাকার নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে মেধা ও মননে।

ভৈরব বাজার রাজকাচারী মাঠে আয়োজিত এবারের মেলায় ১৮টি বইয়ের স্টল বসেছে। এছাড়া প্রতিদিন মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সাংস্কৃতিককর্মীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক পরিবেশন। এ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে থাকবে প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে।

অর্থসূচক/কেএসআর