আমদানি-রফতানিতে করোনার প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী
বুধবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আমদানি-রফতানিতে করোনার প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে আদা, রসুনসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আমরা একটু দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তারপরও আমরা সব দিকে লক্ষ্য রাখছি।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কী পরিমাণ চাপ আসতে পারে- সেটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে। এর প্রভাব গার্মেন্টস সেক্টরে কী পরিমাণ… সে ব্যাপারে খুব সম্ভবত ১৬ তারিখে একটা রিপোর্ট পাব। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখছি ফ্যাক্টরিগুলোর সাপ্লাইয়ের দিকে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি শুরু হয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুপুরে ইফসির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং মালামাল বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ও কাঁচামাল আমদানি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ বিষয় সমাধানে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে বলা মুশকিল, এটা অত্যন্ত গভীর সমস্যা।

তিনি বলেন, রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরের হঠাৎ করে সাপ্লাইটা কোথায় সোর্সিং করব? সেটা তো সময়ের ব্যাপার। আমরা লক্ষ্য রাখছি, আশা করছি অল্টারনেটিভ মার্কেট পেয়ে যাব। যদিও এর জন্য সময় দরকার। কারণ, যে স্পেসিফিকেশন কাঁচামাল আনতে হয় সেটা অন্য কোথাও পেতে হলে তো সময় দিতে হবে। বায়ারকে এক্সেপ্ট করতে হবে। এটা নিয়ে আমরা একটু দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি বটে।

দেশে রসুনের দাম অনেক বেড়ে গেছে। চীন থেকে অনেক ইলেকট্রনিক্স পণ্য আসে, অনেক কাঁচামাল আসে- এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রসুন যে পরিমাণ প্রয়োজন তার ৯০ শতাংশ চায়না থেকে আসে। রসুনের ব্যাপার এক ধরনের। আর অন্যান্য কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক্স প্রডাক্টের প্রভাব যদি পড়তে শুরু করে সেটা অন্য রকমের ভাবনা। রসুন নিয়ে আমরা চেষ্টা করব বিকল্প মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতে। কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হবে। তবে আমাদের এখনই বলার সময় আসেনি, দেখি বড় ধরনের বিপদ আসে কি না।

ইতোমধ্যে রসুনের দাম বেড়ে গেছে, এ বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং আছে। আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সরকারের বিভিন্ন জায়গায় যারা ইমপ্লিমেন্টেশন করবে তাদেরকে বলা হয়েছে, চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, আপনারা বাজারে যান, বাজার মনিটরিং করেন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাজারে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। কেউ যদি মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ২ মিটারের মধ্যে থাকলে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইমপোর্টেড যে কাপড় বানানো জিনিস তার ওপরে করোনা ভাইরাসের প্রভাব নেই। কিন্তু মানুষজন কাজ করতে যাবে সেখানেই সমস্যা। মানুষ কাজ না করলে প্রোডাকশন হবে কেমন করে? জিনিসপত্র আনলে সেখানে সমস্যা নাই। কিন্তু ওখান থেকে তো সাপ্লাইটা শুরু হতে হবে। আমরা লক্ষ্য রাখছি তারা (চীন) সাপ্লাইটা শুরু করে কি না।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ