বাংলাদেশে ৫০ বিলিয়ন বিনিয়োগের বিষয়ে মন্তব্য করেননি সৌদির শ্রম উপমন্ত্রী
বুধবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাংলাদেশে ৫০ বিলিয়ন বিনিয়োগের বিষয়ে মন্তব্য করেননি সৌদির শ্রম উপমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি সৌদি সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাহির আব্দুল রাহমান আল-গাসিম।

আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বেশ কিছু খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জানাযায় সৌদির কোম্পানি ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শিল্প ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো নির্মাণে এক হাজার হেক্টর জমি চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছে। এছাড়া এর আগে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে রাজি হয়েছিল সৌদি।

আজ সকাল থেকে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার লক্ষ্যে যৌথ কমিশনের ১৩তম সভা শুরু হয়েছে। এ সভা আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এ সভার শেষে এই বিশাল বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিকেলে সৌদির শ্রম ও উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও এই ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি। তার কাছে এই বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে খুব ভালো যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সৌদি আরবের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। তবে কি পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে সে বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি।

সৌদি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গত দুই বছর আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তখন তার লক্ষ্য ছিল, সৌদির বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসুক এবং বিনিয়োগ করুক। আপনারা জানেন, সৌদি বেসরকারি ভিত্তিক অর্থনৈতিক দেশ নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সে দেশের সরকারের। সেই সৌদি আমাদের পাশে আছে। আমি নিশ্চিত, সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দিন দিন উন্নতি হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবার এমন একটা সময়ে এই যৌথ কমিশনের সভার আয়োজন করছে যখন দেশটি তার উন্নয়নের পথে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। এই অধিবেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোরও আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরনে সহায়তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে অবদান রাখতে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, এসডিজি, পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সহযোগীতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সৌদিআরবের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি গত অর্ধ শতাব্দীতে বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। যার পিছনে রয়েছে সৌদিআরব ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাংলাদেশ এখন বন্ধুত্বের উর্ধ্বে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর অংশীদারিত্বকে’ ধরে রাখার দিকে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশ তার দ্বিপাক্ষিক বন্ধুদেশ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অব্যাহত ও বর্ধিত সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ