ArthoSuchak
শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘১৮ বছরের নিচে ফেসবুক একাউন্ট নয়’

ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিশোরেরা। তাই ১৮ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে যেন না পারে সেজন্য ১৮ বছরের নিচে ফেসবুক একাউন্ট খুলতে না পারার দাবি জানিয়েছেন রিয়াজ নামে এক স্কুলছাত্র।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে ‘নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস ২০২০’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফেসবুকের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার হেড অব পলিসি প্রোগ্রামস শেলি থাকরালের কাছে এই প্রস্তাব করেন ওই ছাত্র।

এদিকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক সাথে আরো একটু সংযুক্ত করে শেলি থাকরালের কাছে প্রস্তাব করেন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ১৮ বছরের বাধ্যবাধকতা ও এনআইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার। তবে অনুষ্ঠানে কিশোরে (রিয়াজ) ও পলকের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন ফেসবুকের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার এই কর্মকর্তা।

এ সময় ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন, সাইবার প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সম্ভাবনাগুলো বিবেচনা করার এবং ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনতে আমাদের সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও শক্তি ব্যবহারের সময় এসেছে। শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ার কোনো সমাধান হতে পারে না। কারণ এটি একইসঙ্গে বিশাল জ্ঞান ও তথ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে, যা আজকের এই বিশ্বে শিশুদের জন্য প্রয়োজন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশের আইনে কেউ সিমকার্ড কিনতে গেলে তাকে এনআইডি দিতে হয়। অর্থাৎ, আমাদের দেশে কেউ ১৮ বছরের নিচে হলে সিমকার্ডের মালিক হতে পারে না। কিন্তু ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কেউ ১৩ বছরের উপরে হলেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।

অনুষ্ঠানে ফেসবুক ব্যাবহারে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে কিশোরদের সতর্ক করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি খোলা অপরাধ। কেউ এ কাজ করলে তাকে সাজার আওতায় আনা সম্ভব। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিকারক উপাদান (মন্তব্য, সংবাদ, ছবি, ভিডিও, অডিও) প্রকাশ করা এবং এতে মন্তব্য, শেয়ার কিংবা লাইক দেয়াও অপরাধ। এসব করলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেসব কনটেন্টকে (সংবাদ, মন্তব্য, ভিডিও, অডিও) ক্ষতিকারক বলি, সেগুলোকে তিনটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায় যার একটা হলো পর্নোগ্রাফি। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে অসত্য সংবাদ, গুজব, ঘৃণা ছড়ান এবং তৃতীয়ত, জঙ্গিবাদী উপাদান। এই তিন ধরনের কনটেন্টে লাইক দেয়া, শেয়ার করা, মন্তব্য করা কিংবা এ সংক্রান্ত স্ট্যাটাস আপলোড করা অপরাধ।

পর্নোগ্রাফি আইন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধিকাংশ অপরাধই অজামিনযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে মামলা নিয়ে গ্রেফতারের সুযোগ রয়েছে পরোয়ানা ছাড়াই বলেও জানান তিনি।

ফেসবুকের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে ফেইক আইডি খোলা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী অপরাধ। শুধু ফেইক আইডি খোলার অপরাধেই কাউকে সাজার আওতায় আনা সম্ভব। আমরা যখন চিহ্নিত করতে পারি এটা ফেইক আইডি, কিংবা এখান থেকে ক্ষতিকর জিনিস ছড়ানো হচ্ছে, তখন ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করি।

সরকারের কাছে ক্ষতিকারক মনে হলেও (ফেসবুকের) কমিউনিটির স্ট্যান্ডার্ডের স্বার্থের কারণে ফেসবুকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ