ArthoSuchak
রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘বিশেষ তহবিলে তারল্য ও আস্থা বাড়বে’

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ তহবিল বাজারে তারল্য এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তারা এই তহবিলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং গভর্নর ফজলে কবিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার অর্থসূচককে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তারা এ মত দিয়েছেন।



অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


উল্লেখ, গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণা করে। এ তহবিলের আওতায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সুবিধা পাবে। এ তহবিল তারা নিজেরা গঠন করতে পারবে অথবা ৫ শতাংশ সুদে বিশেষ রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


বিশেষ তহবিলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মোঃ রকিবুর রহমান, বর্তমান পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনসহ স্টক ব্রোকার. মার্চেন্ট ব্যাংকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডার।

মোঃ রকিবুর রহমান বলেছেন, বিশেষ তহবিল গঠনের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উদ্যোগের বাস্তবায়ন আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এটি বাজারের উন্নয়নে খুবই তাৎপর্যময় একটি বিষয়। এই তহবিল বাজারে তারল্য বাড়াবে। অন্যদিকে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। কারণ তহবিলের অর্থ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই তহবিলের আগে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কিছু কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারের জন্য একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী যে কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার কথা বলেছেন, তার বাইরেও অনেকগুলো লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোকেও বাজারে নিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে।

তিনি সরকারকে একটি হোল্ডিং কোম্পানি গঠন করে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে থাকা সরকারী শেয়ারগুলোর মালিকানা ওই কোম্পানিতে স্থানান্তর এবং পরবর্তীতে ওই কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দেন।

ডিএসইর সাবেক এই প্রেসিডেন্ট পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাগিদ দিয়ে বলেন, বিশেষ তহবিল গঠনের মধ্য দিয়ে বাজারের তারল্য সঙ্কট কিছুটা লাঘব হবে আশা করা যায়। এখন দরকার পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোরালো উদ্যোগ নেওয়া। আইপিওতে আসা কোম্পানি, তার অডিটর ও ইস্যু ম্যানেজারকে আরও বেশি দায়বদ্ধ করা। কোনো আইপিওতে মিথ্যা তথ্য দিলেও, ব্যালেন্সশিটে কারসাজি করলে কোম্পানির পর্ষদ সদস্য ও কর্মকর্তা এবং নিরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সেকেন্ডারি বাজারে কোনো কারসাজি হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বাজারের মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠান, এমনকি ডিএসইতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন অর্থসূচককে বলেন, বিশেষ তহবিলের বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক একটি বিষয়। এই তহবিলের মধ্য দিয়ে বাজারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের আন্তরিকতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ তহবিল পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়তা করবে। ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের জন্য বাড়তি সুবিধা পাবে। যদি তারা বিনিয়োগ করার বিষয়টিকে আকর্ষণীয় মনে করে তাহলে তারা এই সুযোগকে সহজেই কাজে লাগাতে পারবে।

মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, বিশেষ তহবিলের বিষয়টি সরকারের নৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। তারা যে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সব সময় আন্তরিক তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এতে। এই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য একটি সঙ্কট। কিন্তু কখনো কখনো আস্থার সঙ্কট তারল্য সঙ্কটের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে বাজারে। বিশেষ তহবিল একইসঙ্গে তারল্য ও আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। তবে আস্থা বাড়াতে আগামীতে আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়টিকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের বৈশিষ্ট্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, খুবই সুচিন্তিতভাবে এই তহবিলের গঠনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ারের দাম বিনিয়োগের জন্য খুবই যৌক্তিক পর্যায়ে আছে। তাই এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সবারই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মিনহাজ মান্নান ইমন তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ভাল শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। বাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে ভাল শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে, যেসব শেয়ার বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগকারীদেরকেও বাজারে টেনে আনবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ