প্রতারক চক্রের খপ্পরে সাবেক এমপি, খোয়ালেন ৯০ লাখ
বুধবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

প্রতারক চক্রের খপ্পরে সাবেক এমপি, খোয়ালেন ৯০ লাখ

ম্যাগনেটিক রাইস কয়েন ব্যবসার নামে প্রতারক চক্রকে ৯০ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এম তালহা।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের সূত্র ধরে রোববার (৯) ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- জসিম উদ্দিন, সুজন মিয়া ও লাল মিয়া। এসময় তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোস্তফা কামাল।

তিনি জানান, প্রতারক চক্রটি ২০১৯ সালের জুলাইয়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি প্রকৌশলী এম তালহাকে জানায়, তাদের কাছে বহু মূল্যবান ম্যাগনেটিক রাইস কয়েন আছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আমলের এ ম্যাগনেটিক কয়েনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্তর্জাতিক বাজারে। আমেরিকার স্পেস রিসার্চ সেন্টার নাসার কাছে কোটি টাকায় বিক্রি করা যাবে এই কয়েন।

কৌতূহলী হয়ে কথিত কয়েনটি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ওই নেতা। এরপর তাদের মধ্যে চলে কয়েনের দরদাম। ওই নেতাকে বলা হয়, তাদের পূর্ব পরিচিত ভারতীয় খ্যাতনামা কোম্পানির একজন প্রতিনিধি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি কয়েনগুলো কেনায় ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সাবেক সাংসদ তালহা রাজি হলে তাকে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে নিয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। সেখানে চক্রের আরেক সদস্য আমিনুল ইসলাম নিজেকে ইউরেনিয়াম এনার্জি লিমিটেডের সিনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অনেক নামি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি তার মাধ্যমে ম্যাগনেটিক কয়েনের ব্যবসা করেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় পার্টির ওই নেতা আগ্রহ দেখালে প্রতারক চক্রের একাধিক সদস্য বিভিন্ন সময়ে তার বাসায় আসেন। নানান ধরনের কথা বলে তাদের সঙ্গে ম্যাগনেটিক কয়েন ব্যাবসায় বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করেন।

কথিত কয়েনের মালিকের কাছ থেকে কয়েনের ইউনিট ক্রয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে রিপোর্ট সংগ্রহ, প্যাকিং প্রক্রিয়া, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির বিভিন্ন ব্যয়ভার বহন, বিক্রয় মধ্যস্থতাকারী এজেন্টের পাওনা অগ্রিম দেওয়াসহ বিভিন্ন কথা বলে ওই নেতার কাছ থেকে ৯০ লাখ ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এক পর্যায়ে ভিকটিম তালহা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর গতবছরের সেপ্টম্বরে ডিএমপির বনানী থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

এসএসপি মোস্তফা কামাল বলেন, রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিআইডি জানতে পারে প্রতারক চক্রটি আবারো ভিকটিম তালহাকে রাইস কয়েনের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ