ArthoSuchak
রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মেট্রোরেল নির্মাণে ধীরগতি, নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

রাজধানীবাসীর যানজটের ভোগান্তি কমাতে সড়কের ওপর দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ করছে সরকার। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমবে এবং পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে এই মেট্রোরেল নির্মাণ করতে গিয়ে সড়কের অনেকটা জায়গা দখল করে চলছে নির্মাণ কাজ। দুদিকের সরু অংশ নিয়ে কোনোমতে চলাচল করছে যানবাহন। এতে দিনভর যানজটের ভোগান্তি লেগেই আছে।

এদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মেট্রোরেলের কাজ করতে না পারায় বার্ষিক বরাদ্দের টাকা ফেরত দিচ্ছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেট্রোরেলের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে রয়েছে সংশয়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো দীর্ঘায়িত হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেট্রোরেল প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মেট্রোরেলের কাজ কাঙ্ক্ষিত হারে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশোধিত বাকি উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে ৪ হাজার ৩২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ। তাদের এ প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশন। অনুমোদন পেলে প্রকল্পটিতে বরাদ্দ কমবে ২ হাজার ৮৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আফতাব আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে বছরের শুরু থেকেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিতহারে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও প্রকল্পটি নির্দিষ্ট মেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো নির্দেশনা দিইনি যে প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ ফেরত দিতে হবে। আমরা চাই, প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন হোক। তবে যেসব প্রকল্প থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তারা যে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করবে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

মেট্রোরেলের জন্য নির্মিত উড়ালপথে রেললাইন বসানো শুরু হচ্ছে এ মাসেই। আগামী জুনে ইঞ্জিন-কোচ চলে আসার কথা। সেগুলো ঠিকঠাকমতো বসানোর পর শুরু হবে পরীক্ষামূলক চলাচল। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২১ সালের শেষে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঢাকাবাসী বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেলে চড়তে পারবে।

জানা যায়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার মেট্রোরেলের কাজের মোট অগ্রগতি গত বছরের (২০১৯) নভেম্বর পর্যন্ত ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের আট কিলোমিটার উড়ালপথ তৈরির কাজ শেষ। জাপানের সহায়তায় এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত পথগুলোর একটি হচ্ছে মিরপুর থেকে মতিঝিল। এই পথে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। মেট্রোরেলে উত্তরা থেকে মতিঝিলে যেতে লাগবে ৩৮ মিনিট। ঘণ্টায় দুই দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা। বাকিটা সরকার বহন করছে। এই প্রকল্প ২০১২ সালের ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত স্টেশন হবে ১৬টি। শুরুতে ২৪টি ট্রেন দিয়ে মেট্রোরেল চালু করার কথা রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে প্রাথমিকভাবে ছয়টি করে বগি থাকবে। পরে তা আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। প্রাথমিক হিসাব অনুসারে, শুরুতে দিনে ৪ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ২০৩৫ সালে যাত্রীসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮ লাখের বেশি।

প্রকল্প সূত্র বলছে, ডিপো এলাকায় ৫২টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে মেট্রোরেলের কোচ ধোয়া-মোছার স্থান, কোচ জোড়া লাগানো বা খোলার জায়গাসহ ১১টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কারখানা, ট্রেন রাখার ছাউনি, ট্রেন পরিচালনার নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, কেন্দ্রীয় স্টোর, প্রশাসনিক ভবন, ডরমিটরি, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পয়োনালাসহ বেশ কিছু বড় অবকাঠামোর কাজ চলছে।

উত্তরা থেকে আগারগাঁওয়ের দূরত্ব ১১ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার। এই অংশে নয়টি স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে উত্তরায় দুটি স্টেশনের লাউঞ্জ নির্মাণের কাজও চলছে। এই অংশের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের আগস্টে। ঠিকাদার ইতালিয়ান–থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মিরপুরের দিকে আট কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ শেষ হয়েছে। পৌনে দুই কিলোমিটার পথে রেললাইন বসানোর জন্য ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেলের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং রেললাইন বসানোর কাজ পেয়েছে জাপানের মারুবেনি ও ভারতের এল অ্যান্ড টি। রেললাইন নির্মাণের পাত ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণের তার উত্তরায় এসেছে। এখন লাইনে বিদ্যুতের খুঁটি এবং ট্রেনের সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজের অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

মেট্রোরেলের ইঞ্জিন-কোচ ও ডিপোর মালামাল সংগ্রহের কাজটি করছে জাপানের কাওয়াসাকি ও মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম। ইঞ্জিন-কোচ নির্মাণের পুরো কাজটাই হচ্ছে জাপানে। আগামী জুনে ইঞ্জিন-কোচ বাংলাদেশে আসা শুরু হবে। এরপর সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। ইঞ্জিন-কোচের নকশা করার পর চলতি মাসে ইঞ্জিন এবং এপ্রিলে বগি নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশের বেশি।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ