ArthoSuchak
বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এজেন্টের মাধ্যমে দশ মাসে ২১২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ

গত বছরের (২০১৯) প্রথম দশ মাসে এজেন্টের মাধ্যমে ২১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। কিন্তু এক বছর আগেও বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অচেনা ছিল ব্যাংকিংয়ের এই সহজ পদ্ধতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বাধা না থাকায় গ্রাম ও শহরে সমান তালে বেড়ে চলেছে এজেন্টের সংখ্যা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি শাখার তুলনায় এজেন্ট পরিচালনার খরচ অনেক কম। তাছাড়া শহর বা গ্রামে এজেন্ট দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেমনটি রয়েছে ব্যাংকের শাখা খোলার ক্ষেত্রে। কোনো ব্যাংক চাইলেই শহরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে শাখা খুলতে পারবে না। এজন্য তাকে গ্রামাঞ্চলেও একটি নতুন শাখা খুলতে হবে। ফলে নতুন শাখার চেয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝোঁক বাড়ছে। এছাড়া স্বল্প লোকবলের মাধ্যমেই ব্যাংকের অধিকাংশ সেবা নিশ্চিত হওয়ায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) মোট ৬৫ হাজার ৬ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এজেন্টগুলোর মাধ্যমে একই সময়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন গ্রাহক।

সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সবার উপযোগী ও ব্যয়সাশ্রয়ী আর্থিক সেবা চালুর লক্ষ্যে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত এলাকার পূর্বপরিচিত দোকানদার, ব্যবসায়ী বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রের এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সেবা পাওয়ায় কোনো ভীতি কাজ করছে না মানুষের মধ্যে। সমাজের একটি অংশ কেমন খরচ হবে, কীভাবে কথা বলতে হবে- এসব কারণে ব্যাংকে যেতেন না। তারাই এখন এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে সঞ্চয় রাখছেন বা ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে এজেন্টের মাধ্যমে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১২৪ কোটি টাকা। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় রেমিট্যান্স এসেছে ৮৩৮ কোটি টাকা।

বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং করছে ১৯টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ৬ হাজার ৮০৮ এজেন্টের আওতায় ৯ হাজার ৭০৩টি আউটলেট রয়েছে। এজেন্ট ও আউটলেট বিস্তৃতিতে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া।

যে ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সেগুলো হলো- ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ