ArthoSuchak
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভৈরবে চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার, রহস্য উদঘাটন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া জামাল হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ৮৫ দিন চেষ্টার পর মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা, ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাহালুল খান বাহার আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

তিনি তাঁর পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রোববার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামাল হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টিটু চন্দ্র বিশ্বাস পবন, আয়েশা আক্তার আশা, বাবুল মিয়া ও মুক্তার মিয়া নামের ৪জনকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেপ্তার টিটু বিশ্বাস পবন নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার মৃত লাল মোহনের পুত্র, আয়েশা আক্তার আশা ভৈরব শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ সংলগ্ন বাচ্চু মিয়ার কন্যা, বাবুল মিয়া জগন্নাথপুর-লক্ষীপুর গ্রামের তারা মিয়ার পুত্র এবং মুক্তারের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাইঝচর গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ। টিটু চন্দ্র বিশ্বাস পবন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের আলোচিত ফাইভ মার্ডার মামলাসহ ও অস্ত্র মামলার আসামি।

গতকাল সোমবার পুলিশ গ্রেপ্তারদের কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশিকুর রহমানের আদালতে হাজির করলে টিটু বিশ্বাস পবন ও আয়েশা আক্তার আশা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার জানান, পুলিশ সুপার স্যারারে নির্দেশে এবং ওসি স্যারের সার্বিক সহযোগিতায় নিহত জামালের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখিতদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাই।

পরে তাদেরকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার তাদের গ্রেপ্তারের পর তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। পরদিন আদালতে হাজির করার পর পবন ও আশা স্বীকার করলেও বাবুল আর মুক্তার স্বীকার করেনি। তাই তাদেরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড আবেদন জানাবে।

আদালতে জবানবন্দি দেওয়া আশার বরাতে ওসি তদন্ত আরও জানান, টিটু বিশ্বাস পবনের সাথে তার দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের মাঝখানেই জামালের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে টিটু নারাজ হয়। এক পর্যায়ে টিটুর চাপে পথের কাঁটা সরাতে তারা জামালকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দিন জামাল আশার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে আশা কৌশলে সটকে পড়ে।

পরে টিটুর নেতৃত্বে আসামীরা জামালকে পুরুষাঙ্গ কেটে, চোখ তুলে নির্মমভাবে খুন করে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের আলুকান্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে বিবস্ত্র লাশ ফেলে যায়।

টিটু চন্দ্র বিশ্বাস পবনের বরাতে তিনি আরও জানান, নিজের সম্পর্কের নারীকে নিজের করে পাবার ইচ্ছায় পথের কাঁটা জামালকে সরাতে ওই নারীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে ডেকে এনে তাকে বিদায় করে দিয়ে তিনজন মিলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত: গত বছরের ৯ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বাউসমারা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ১০ নভেম্বর রোববার বিকালে শিবপুর ইউনিয়নের আলুকান্দা এলাকার নির্জন জঙ্গল থেকে তার পুরুষাঙ্গ কাটা বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন এসে লাশ সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম বাদী হয়ে পরদিন সোমবার ভৈরব থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও, এমন আলোচিত একটি ঘটনার সমাধান হওয়ায় তিনি তৃপ্ত। এইজন্য তিনি মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাহালুল খান বাহারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ