ArthoSuchak
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৬ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০ হাজার কোটি টাকা

রফতানি আয়ের নিম্নগতির প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮২২  কোটি ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৬৯ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাবেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে পণ্যের চাহিদা কম ও সঠিক মূল্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রফতারি হচ্ছে না। অন্যদিকে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি ব্যয় যে হারে বেড়েছে সেই তুলনায় রফতানি হয়নি। যার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে ডিসেম্বর শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮২২ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় (বিনিময় হার ৮৫ টাকা) দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

ঘাটতির এ অঙ্ক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় ছিল ৭৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় এবার ঘাটতি বেড়েছে ৪২ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও সেপ্টেম্বর থেকে তা ঋণাত্মক হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো।

এদিকে আলোচিত সময়ে সেবাখাতে বেতন-ভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৫২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে ৩৬০ কোটি ডলার। এ হিসাবে সেবায় বাণিজ্যে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যা গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল (ঘাটতি) ১৬২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আলোচিত সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এর মধ্যে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ১৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ও নিট বেড়েছে ২ দশমকি ৫৭ শতাংশ।

একই সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। যা তার আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় ২ হাজার ৬৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। সেই টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে এই সাত মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২৯১ কোটি মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ২ হাজার ২৯১ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

 

অর্থসূচক/জেডএ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ