ArthoSuchak
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লক্ষ্যমাত্রার ধারে-কাছেও নেই রপ্তানি আয়

বিশ্ববাজারে বাণিজ্যের দৌড়ে একটু পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও সে অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় রপ্তানি আয়ে পিছিয়ে পড়েছে। গত বছরে যে হারে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না। এছাড়া রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস তৈরি পোশাক খাত তেমন ভালো না করতে পারায় কমেছে আয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ওই বছর রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৩ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। সেই অনুযায়ী এবার রপ্তানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল ৪ হাজার ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার গত সাত মাসে রপ্তানি আয়ের টার্গেট ছিলো ২ হাজার ৬৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। সেই টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে এই সাত মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২৯১ কোটি মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


আজ মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পণ্য রপ্তানির আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ২ হাজার ২৯১ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

আগের মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। ডিসেম্বরে যেখানে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, সেখানে জানুয়ারিতে আয় বেড়ে হয়েছে ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। আর এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অবশ্য গত বছরের ডিসেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। সে হিসেবে জানুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস দেশের তৈরি পোশাক খাত। জানুয়ারি মাসে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি এ খাতটি। ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সাত মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৬২ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯৪৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ কম।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ ও লক্ষ্যমাত্রা ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬০ কোটি ২৪ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৫৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এদিকে গত সাত মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ সময় আয় হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। গত সাত মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুটিই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ৪৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাস শেষে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা বাড়েনি। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ