সদরঘাটে নৌকা হোটেল, ৪০ টাকায় রাত পার!
রবিবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সদরঘাটে নৌকা হোটেল, ৪০ টাকায় রাত পার!

ঢাকা! বিশ্বের সবচেয়ে খরুচে শহরগুলোর তালিকায় প্রথম সারির একটি শহর। এই শহরে বসবাসের জন্য আয়ের বেশিরভাগ অংশ ব্যয় করতে হয়। বাসা ভাড়া, বাজার-সদাই সহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের যেন নাভিশ্বাস অবস্থা। ঢাকা শহরে বাসা ভাড়ার জন্য চলে যায় আয়ের একটি বড় অঙ্ক। কিন্তু ঢাকা শহরেও যে অত্যন্ত স্বল্প খরচে রাত কাটিয়ে দেয়ার জায়গা আছে তা কয়জন জানেন?

এমন একটি জায়গার সন্ধান করেছে অর্থসূচক পরিবার। ঢাকার প্রাণ বলা হয় যে পুরান ঢাকাকে সেই পুরান ঢাকার প্রাণ হবে নিশ্চিতভাবে সদরঘাট। ঢাকার প্রবেশদ্বার সদরঘাটে খোঁজ পাওয়া গিয়েছে এমন কিছু আবাসিক হোটেলের যেখানে নামমাত্র মূল্যে যে কেউ রাত কাটিয়ে দিতে পারেন নিশ্চিন্তে।

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে স্বাধীনতার আগে গড়ে উঠেছিলো ভাসমান হোটেল। তখনকার বুড়িগঙ্গা আর এখনকার বুড়িগঙ্গার বিস্তর তফাৎ থাকলেও ভাসমান হোটেলগুলো টিকে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে। নদীর তীরে পাঁচটি নৌকায় রয়েছে পাঁচটি ভাসমান আবাসিক হোটেল।

কথা হচ্ছিলো এদেরই একজন ফরিদপুর মুসলিম হোটেলের স্বত্তাধিকারীর সাথে। তিনি জানালেন, মাত্র ৪০ টাকায় এখানে থাকার ব্যবস্থা আছে। ৪০ টাকায় নৌকার নিচের ডেকে থাকা যায়। নৌকার উপরের ডেকে থাকা যায় মাত্র ৫০ টাকায়। আছে কেবিনের ব্যবস্থাও। কেবিনে থাকা যাবে ১০০ টাকায়।

ঢাকা শহরের যেকোনো আবাসিক হোটেলে ৫০০ টাকার নিচে যেখানে রুম পাওয়া যায় না সেখানে এই ভাসমান হোটেলগুলোতে থাকা যাবে মাত্র ৪০ টাকায়!

কথা হলো এখানকার একজন নিয়মিত বাসিন্দা আব্দুল বারেক শিকদারের সাথে। তিনি জানালেন এর ইতিহাস। স্বাধীনতার আগে থেকে তিনি এই হোটেলে থাকেন। তিনি জানান, শুরুতে এই হোটেলে বিনামূল্যে থাকা যেতো। কালের বিবর্তনে এখন তা ৪০ টাকার বিনিময়ে থাকতে হচ্ছে। এই ভাসমান হোটেলের বাসিন্দারা সাধারণত কুলি-মজুর এবং শ্রমিক শ্রেণির বলেও জানান বারেক শিকদার।

ঢাকা শহরে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই ভাসমান হোটেলের মতো ঐতিহ্য। ঢাকার সেই পুরোনো ঐতিহ্যকে বর্তমান সময়ের মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা করছে অর্থসূচক পরিবার। তিলোত্তমা ঢাকার ঐতিহ্যকে জানতে চোখ রাখুন অর্থসূচক ইউটিউব চ্যানেলে

অর্থসূচক/এসএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ