করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি থাই চিকিৎসকদের
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি থাই চিকিৎসকদের

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকা করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় সাফল্য পেয়েছেন থাইল্যান্ডের চিকিৎসকরা। ফ্লু এবং এইচআইভি ভাইরাসের ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহার করে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে তারা। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রাজাভিথি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই দাবি করেছেন। খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স- এর।

থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, ৭১ বছর বয়সী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এক চীনা নারীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মিশ্রণ দেয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চমকপ্রদ সাফল্য দেখা গেছে।

ডা. ক্রিয়েংসাক আত্তিপর্নানিচ সাংবাদিকদের বলেন, আমি খুবই গুরুতর অবস্থার এক রোগীর চিকিৎসা করেছি এবং ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় থাকা রোগী উঠে বসেছে মাত্র ১২ ঘণ্টা পরেই। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ল্যাব রেজাল্টও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়ে গেছে।

থাই মেডিক্যাল সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক সোমস্যাক আকসলিম বলেন, ৭০ বছর বয়সী নারীর চিকিৎসা সফলতা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বৈঠকে বসবে মন্ত্রণালয়। তবে সব রোগীর ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হবে কিনা তা এখনও নির্ধারণের সময় হয়নি। প্রাথমিকভাবে মারাত্মক আক্রান্ত রোগীদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এইচআইভি ও ফ্লু ভাইরাসের ওষুধ ব্যবহারের পক্ষে আগে থেকেই মতামত দিয়ে আসছেন চীনা কর্মকর্তারা। তবে থাই চিকিৎসকেরা বলছেন, তিনটি ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহার করে চিকিৎসায় বেশি সফলতা পেয়েছেন তারা। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোমস্যাক আকসলিম বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছি, তবে আমাদের চিকিৎসকেরা একটি ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিয়ে সফলতা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ওসেলটামিভির নামে একটি ওষুধ ও এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের নাম লোপিনাভির এবং রিটোনাভির।

ব্যাংককের রাজাভিথি হাসপাতালের ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাদের আবিষ্কৃত ওষুধ প্রয়োগে রোগ সম্পূর্ণ সেরে যাচ্ছে, এমন নয়। তবে দ্রুত রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে। আর এটাকে যথেষ্ট বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চীনের প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন অন্তত ৩৬১ জন। গতকাল মারা যাওয়া ৫৭ জনের মধ্যে একজন বাদে সবাই ভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশের। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত সাড়ে তিনশ’ জন।

চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮২৯ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২০৫ জন।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ