ArthoSuchak
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। শীত উপেক্ষা করে দুই সিটির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। এবারই প্রথম ঢাকার দুই সিটিতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

এর আগে, নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসি সবার সহযোগিতা চেয়েছে। একইসঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগেরও অনুরোধ করেছে ইসি।

স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা লড়ছেন দলীয় প্রতীকে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন না সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তাদের প্রচারেও মুখ্য ভূমিকায় ছিল দলীয় পরিচয়। ফলে স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কিংবা নাগরিক সেবার বিষয়টি ছাপিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে এবারের ভোটের লড়াই।

নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শেষ। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রীও পৌঁছে গেছে। প্রিজাইডিং অফিসারসহ সবাই যার যার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের বিষয়ে কোনও ধরনের আশঙ্কার কিছু নেই। ভোটাররা অবাধ ও নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের কোনও অসুবিধা হবে না।’ নির্বাচনে উন্নত পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকার এই দুই সিটি নির্বাচনের প্রচারে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও সংঘর্ষ হয়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ২১ দিন অনেকটা নির্বিঘ্নেই প্রচার চালিয়েছেন। তবে পিছিয়ে ছিলেন অন্য প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসব ভাব বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, বিএনপির বহিরাগতরা অস্ত্রসহ ঢাকায় অবস্থান করছে। একই দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল কমিশনকে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সামনে রেখে চলছে ধরপাকড়।

দুই সিটির মেয়র পদে ইসির নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দলের ১৩ জন প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা। উত্তরে ৬ জন এবং দক্ষিণে ৭ জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উত্তর সিটির ৬ মেয়র প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের মো. আতিকুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির তাবিথ আউয়াল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (হাতপাখা), পিডিপির শাহীন খান (বাঘ), এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক (কাস্তে)। এই সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন লড়ছেন।

দক্ষিণে মেয়র পদে সাত প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস (নৌকা), বিএনপির ইশরাক হোসেন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা), এনপিপির বাহরানে সুলতান বাহার (আম), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা (ডাব) ও গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন (মাছ)। দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ দশ হাজার ২৭৩ জন। দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) ৭৫ ওয়ার্ডে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ ভোটার।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ