ArthoSuchak
শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কৃষককে লাভবান করতে বেড়েছে চালের দাম

আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য হচ্ছে চাল। কিছুদিন থেকেই বেড়েই চলেছে চালের দাম। একটু একটু করে বেড়ে এক মাসের ব্যবধানে চিকন চালের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৮ টাকা। মোটা চালের দামও বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। যদিও কৃষক যাতে চালের ন্যায্য মূল্য পায় তার জন্যই দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকায়। যা মাসের প্রথম সপ্তাহেও ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। এক মাসের মধ্যেই দাম বেড়েছে প্রায় ৮ টাকা। প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি। যা এর আগে বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজি। এছাড়া লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি। যা এর আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বাজারে আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় যা আগে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গুটি চালের দাম ৩০ থেকে ৩২ টাকায় পৌঁছেছে।

মিরপুর-২ নাম্বার বাজারে কথা হয় এক চাল ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা একটু একটু করে বাড়াচ্ছেন চালের দাম। যাতে সরকারের নজরে না আসে। এর আগে মোকাম থেকে যে চাল নিয়ে এসেছেন তার থেকে প্রায় দেড়শ টাকা বেড়েছে চালের বর্তমান দাম। তবে আগের চাল দোকানে থাকায় একটু কম দামে বিক্রি করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই চিকন চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। বাজারের যা অবস্থা দেখলাম তাতে আরও ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়বে দাম। তবে মোটা চালের দাম কিছুটা কম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির হিসেব অনুযায়ী দেখা যায়, এক মাসের মধ্যে প্রতি কেজি সরু চালের দাম বেড়েছে আট থেকে নয় টাকা। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যেখানে প্রতি কেজি সরু চালের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৬০ টাকা। তা আজ বেড়ে হয়েছে ৫৪ থেকে ৬০ টাকা। মাঝারি চালের দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। তবে কিছুটা কম বেড়েছে মোটা চালের দাম। প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল, তা হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা।

আমাদের দেশে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান ও চৈত্র মাসে বোরো ধান ওঠে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি ও গবেষণা সংস্থা-ইফপ্রি এর তথ্য মতে, আমাদের দেশে কৃষকের কাছে সবচেয়ে বেশি ধান মজুত থাকে এপ্রিল থেকে মে মাসে। এরপর থেকে কৃষকের মজুত ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

গতবছর মে মাসের দিকে দেখা যায়, বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষক বিক্রি করতে পারছে না। ধান আবাদ করতে যে পরিমাণ খরচ বিক্রি করতে গিয়ে সে টাকা পাওয়া যায় না। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামে ধান কেনার ক্রেতা পাওয়া যায় না। ফলে কম দামেই কৃষককে তার ধান বিক্রি করে দিতে হয়। এরপর যখন ধান কৃষকের হাত থেকে ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের কাছে চলে যায় তখন আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে চালের দাম। ইফপ্রি’র বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে। এই সময়ে কৃষকের কাছে ধান নেই অথচ এখন হু হু করে বাড়ছে চালের দাম।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমাদের দেশের কৃষকরা ধানের দাম পায় না। তারা ধানের দাম না পেলে কিভাবে আবাদ করবে। তার জন্যই চালের দাম বেড়েছে।

দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম লায়েক আলী বলেন, কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছে না। এর জন্য ধানের দাম বেড়েছে পাশাপাশি চালের দাম বেড়েছে। তবে চালের দাম যে হারে বেড়েছে, ধানের দাম সেই হারে বাড়েনি। সরু চালের চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ছে। এখন রিকশাওয়ালারাও সরু চাল খাচ্ছে। অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা মোটা চাল বিক্রি করতে পারছে না। তাই দাম বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালের মোকামে ধানের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মোটা ধানের দর কেজিতে ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ টাকা হয়েছে। অথচ সরকার ওই ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ২৬ টাকা। আর সরু ধানের দর প্রতি কেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২২ টাকা হয়েছে।

এদিকে চালের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়লে কৃষক লাভবান হবে। তাই চালের দাম বাড়ুক। এতদিন কৃষক ধানের দাম পায়নি চালের দাম বাড়ার কারণে ধানের দাম বাড়বে। চিকন চালের দাম বাড়লে মোটা চালের চাহিদা বাড়বে। অনেক জায়গায় ক্রেতার অভাবে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে না।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ