গ্রামীণফোনের নীট মুনাফায় ২৪% প্রবৃদ্ধি
বুধবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গ্রামীণফোনের নীট মুনাফায় ২৪% প্রবৃদ্ধি

নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যবসায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র টেলিফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড (জিপি)। বিদায়ী বছরে (২০১৯) কোম্পানিটি ৩৪৫০ কোটি টাকা নীট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতা্ংশ বেশি। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৫৬ পয়সা।


প্রিয় পাঠক, সঞ্চয়, বিনিয়োগ,পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং, বীমা, আয়কর, কেনাকাটা ইত্যাদি বিষয়ে আপনাদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত তথ্য ও টিপস পরিবেশন করছে অর্থসূচক পরিবারের নতুন সংযোজন আমারটাকাডটনেট www.amartaka.netসহজে এসব তথ্য পেতে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের ফ্যানপেজে www.facebook/amartaka.net


আলোচিত বছরে গ্রামীণফোনের রাজস্ব আয় আগের বছরের চেয়ে ৮.১ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা হয়েছে। ২০১৯ সালে ইন্টারনেট সেবা খাত থেকে আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ে ভয়েস কল থেকে আয় বেড়েছে ৮.৫ শতাংশ।

২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকে মোট রাজস্ব দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বেশি।

চতুর্থ প্রান্তিকে ৭ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে যোগ দিয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে আগের বছররে তুলনায় ৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে মোট গ্রাহক দাড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ। মোট গ্রাহকের মধ্যে ৪ কোটি ৬ লাখ বা ৫৩.১ শতাংশ গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারী।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, রেগুলেটরি দৃষ্টিকোণ থেকে ২০১৯ সাল গ্রামীণফোন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার করেছে। নানা ধরনের বিধিনিষেধ আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত করেছে। তবে চমৎকারভাবে বাজার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নেটওয়ার্কে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়িক সাফল্য অজর্ন করতে সক্ষম হয়েছি। পরিকল্পিত লক্ষ্য অনুযায়ী চতুর্থ প্রান্তিকে ফোরজি সাইটের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০ হাজার। বছর শেষে আমাদের নেটওয়ার্কে ফোরজি গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। ইন্টারনেট সেবা খাতে এর ব্যবহার ও রাজস্ব অর্জন দুটি ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাইকেল ফোলি বলেন, মোবাইল সেবাখাতের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান ধরে রাখতে সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে যেকোন অর্থপূর্ণ আলোচনা করতে আমাদের প্রতিশ্রুতি আমরা পুর্নব্যক্ত করতে চাই।

২৫.৪ শতাংশ মার্জিনসহ ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে মোট মুনাফার পরিমাণ দাড়িয়েছে ৯২০ কোটি টাকা। শেষ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬.৮১ টাকা।

গ্রামীণফোনের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, শক্তিশালী মার্জিন নিয়ে গ্রামীণফোন ২০১৯ সালে ব্যবসায়িক সাফল্য অজর্ন করেছে। তিনি বলেন, চতুর্থ প্রান্তিকে তীব্র প্রতিযোগিতা ও বৈরি আবহাওয়া সত্ত্বেও ইন্টারনেট সেবা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনে সফল হয়েছি। আমাদের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের জন্য আরও বেশি মানসম্মত সুযোগ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে শক্তিশালী নেটওর্য়াক নির্মাণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। আমরা আনন্দের সাথে জানাতে চাই সন্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আমাদের পরিচালনা পর্ষদ প্রতি শেয়ারে ১৩ টাকা লভ্যাংশের প্রস্তাব করেছেন।

২৭ জানুয়ারী ২০২০ সালে পরিচালনা পর্ষদের সভায় গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের জন্য প্রতি শেয়ারে ১৩টাকা লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছেন। এর মাধ্যমে মোট নগদ লভ্যাংশের পরিমান দাড়ালো ১৩০ শতাংশ যা কর পরবর্তী লভ্যাংশের ৫০.৮৬ শতাংশ (৩৫% অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসহ)।

২৩ এপ্রিল (২০২০) বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড ডেট অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডাররা এই লভ্যাংশের যোগ্য হবেন।

চতুর্থ প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এনওসি বন্ধের কারণে গ্রামীণফোনকে পরিকল্পিত বিনিয়োগের চেয়ে কম বিনিয়োগ করতে হয়েছে। শেষ প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পাশাপাশি ৭১৫টি নতুন ফোরজি সাইট করা হয়েছে। ২০১৯ শেষে গ্রামীণফোনের মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫০৮। গ্রামীণফোন ২০১৯ সালে কর, ভ্যাট, ফোরজি লাইসেন্স ফি, স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি, ডিউটি ও ফিস বাবদ সরকারি কোষাগারে ৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকা প্রদান করেছে যা মোট আয়ের ৫৯.২ শতাংশ।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ