ArthoSuchak
মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এবারের সংগ্রাম হবে মাদকের বিরুদ্ধে: রাষ্ট্রপতি

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন নতুন করে আবার সংগ্রাম করতে হবে। আর এবারের সংগ্রাম হবে মাদকের বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, সারাদেশ মাদক ও ইয়াবায় সয়লাব হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন অবাধে মাদকসেবন চলে। মাদক প্রবেশের যতো রাস্তা আছে তার মধ্যে কুমিল্লা অন্যতম। অথচ এক সময় কুমিল্লা পড়ালেখায় পুরো দেশে এক নম্বর ছিলো।

আজ সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। ছাত্রসমাজ যেন মাদকের দিকে পা না বাড়ায় সে-জন্য কাজ করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধ পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ বড় অবদান রাখবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এবারের সংগ্রাম সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

বক্তব্যের শুরুতে কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লার বীরত্ব ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। কুমিল্লার শালবন বিহার, ময়মনামতি যুদ্ধসমাধি সবকিছু ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। কুমিল্লার বিখ্যাত খাদি কাপড় ও রসমলাইয়ের রয়েছে অনেক সুনাম।

সমাবর্তনে আগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমরা সবসময় ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। কখনো ব্যক্তিগত সম্মানবোধ ও নৈতিকতাকে নষ্ট করবে না। এ সমাবর্তন শিক্ষাজীবন শেষ করছে না বরং শিক্ষার সমুদ্রে প্রবেশ করাচ্ছে। শুধু নিজের কথাই ভাববে না। মানুষ ও সমাজের কথা ভাবতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জনের স্থান। র‌্যাগিং ও টাকা নষ্ট করার স্থান নয়। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠান তা মনে রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়। পাশাপাশি তাদের জ্ঞানের মশাল জ্বালাতে হবে। শিক্ষার্থীদের মননে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে শিক্ষকদের।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তনে ২ হাজার ৮৮৮ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। যাদের মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ১ হাজার ২২২ জন এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৬৬৫ জনকে সনদ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া ১৪ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ