রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আইসিজের রায় প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের
মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আইসিজের রায় প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে বলা জাতিসংঘের বিচার আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) রায় প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

আইসিজের এই রায়ের পর আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারকে রায় মানতে বাধ্য করতেও পারবে না। তেমন কোনো উপায় আইসিজের হাতে নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় আইসিজে। একই সঙ্গে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনী ও গোষ্ঠীগুলো যেন রাখাইনে আর কোনো ধরনের গণহত্যার ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত। কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে আগামী চার মাসের মধ্যে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেন আইসিজে।

এর জবাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তাদের স্বাধীন তদন্ত কমিশন রাখাইনে গণহত্যার কোনও প্রমাণ পায়নি। তবে যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে। যেটার বিচার মিয়ানমারের অপরাধ আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা সম্ভব। কিছু মানবাধিকারকর্মীর নিন্দামন্দের ফলে কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টান পড়েছে। রাখাইনের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণের পথেও অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এসব।

এর আগে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে গণহত্যা, গণধর্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া। এরপর ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

এছাড়া শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারক সোমালিয়ার নাগরিক আব্দুলকায়ি আহমেদ ইউসুফ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান। এতে ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ এনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। ওই গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ দিতে আইসিজের প্রতি আহ্বান জানায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি।

পরের দিন শুনানিতে অংশ নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং আদালতের এ বিষয়ে শুনানি করার এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানকালে কিছু সেনা আইন লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন সু চি।

অন্যদিকে গাম্বিয়া মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখা যায় না বলে জানায়। তারা রোহিঙ্গা গণহত্যা ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে অন্তর্বর্তী নির্দেশে দেওয়ার অনুরোধ জানান। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের মুখে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ