তিনবার তাজমহল বিক্রি করেছিল যে প্রতারক!
মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তিনবার তাজমহল বিক্রি করেছিল যে প্রতারক!

পেশায় আইনজীবী। বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের সই জাল করতে ওস্তাদ তিনি। আসল নাম মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব হলেও নটবরলাল নামে বেশি পরিচিত। ভারতের বিহারের সিওয়ানের বাংরা গ্রামে জন্ম নেয়া সেই নটবরের কূটকৌশলে তিনবার বিক্রি হয়েছিল তাজমহল! শুধু তাই নয়, ৫৪৫ জন সংসদ সদস্যসহ গোটা সংসদ ভবনই বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি।

প্রতারক হিসেবে নটবরলালের বুদ্ধি আকাশচুম্বী। প্রতিবারই চ্যালেঞ্জ করে একের পর এক জাতীয় স্মারক বিক্রি করেছেন তিনি। এও সম্ভব? হ্যাঁ, নটবরের পক্ষে সবই সম্ভব। খদ্দেরের মাথা চিবিয়ে তাই বিক্রি করে দেন খোদ রাষ্ট্রপতি ভবন। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের তাজমহলকে বিক্রি করে দেন তিনবার! সংসদের মতো ভবনকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন প্রতারণা করে। বিখ্যাত লাল কেল্লা? সেটিও দুবার বিক্রি করেছেন।

কারা তার এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন? তাদের নাম আড়ালে রাখা হয়েছে। তবে প্রতিবারই মোটা অঙ্কের অর্থ নিজের পকেটে পুরেছেন নটবরলাল। অদ্ভুত এক বিস্ময় নটবরলাল। বড় বড় গোয়েন্দা, অপরাধ বিশেষজ্ঞ তাকে নিয়ে ভেবেছেন, পুলিশ তাকে পাকড়াও করেছে। কিন্তু জেল ভেঙে পালিয়েছেন নটবরলাল।

অন্তত ১০০টি প্রতারণা ও জোচ্চুরির মামলায় তাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছে ৮টি রাজ্যের বিশাল পুলিশ বাহিনী। আটক হওয়ার পর জেল ভেঙেও পালিয়ে গেছেন নটবরলাল।

নটবরলালকে বিভিন্ন মামলায় ১১৩ বছর সাজা দেওয়া হয়। নয়বার ধরা পড়লেও তাকে আটকে রাখা যায়নি। বার বার পালিয়ে গেছেন তিনি।

সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ধরা পড়েছিলেন নটবরলাল। তখন তার বয়স ৮৪ বছর। অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালে থাকার অনুমতি জোগাড় করেন তিনি। জেল থেকে হুইল চেয়ারে হাসপাতাল যাওয়ার মাঝেই পালিয়ে যান নটবর। এরপর তাকে আর কেউ দেখেনি। পরিবারের দাবি মৃত্যু হয়েছে নটবরলালের। যদিও কথাটা বিশ্বাস করতে পারেনি পুলিশ। তবে আলোচনা থেকে হারিয়ে যায়নি মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব ওরফে নটবরলাল। প্রতারিতরা, পুলিশ, অপরাধ বিজ্ঞান- সবখানেই উচ্চারিত হয় ঠগের রাজা নটবরের নাম।

নটবরলালের আসল নাম মিথিলেশ শ্রীবাস্তব। ১৯১২ সালে বিহারের সিওয়ান জেলার জিরাদাইয়ের বাঙ্গরায় জন্ম হয় তার। বাবা রঘুনাথ প্রসাদ ছিলেন রেল কর্মচারী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন মিথিলেশ। আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পেশায় আইনজীবী হলেও মানুষ ঠকানোতে নিজের দক্ষতা টের পেয়ে ছেড়ে দেন সেই পেশা।

মিথিলেশ প্রথম প্রতারণা করেন গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি মিথিলেশকে শহরের ব্যাংকে ড্রাফট জমা করে দিয়েছিলেন। জমা করার সঙ্গে ড্রাফট থেকে ওই ব্যক্তির সই নকল করে নেন মিথিলেশ। তারপর প্রায় ১০০০ টাকা তুলে নেন অ্যাকাউন্ট থেকে। ১৯৩০ সালে কিন্তু এই পরিমাণ টাকা বেশ বড় অঙ্কের বলা যায়। একদিন ধরা পড়ে যান মিথিলেশ। বাবা পেটালেন, ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান কলকাতায়।

মিথিলেশের ছদ্মনাম ছিল ৫০ এর ওপর। তবে সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে নটবরলাল নামটি। এই নামের জনপ্রিয়তা এতই বেশি যে এখনো ভারতে প্রতারক শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।

কলকাতায় গিয়ে এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে টিউশন পড়ানো শুরু করেন নটবরলাল। সেখানে তুলোর ব্যবসায়ী শেঠকে ঠকিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। সেই শুরু, এরপর ৬৬ বছর ধরে ভারতের আটটি রাজ্যের প্রায় ৪০০ লোককে ঠকিয়ে কোটি টাকা উপার্জন করেন তিনি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ