মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে রাজাকারের নাম থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ

foridpur
ফরিদপুর মানচিত্র

ফরিদপুর ম্যাপপ্রকাশ হওয়া মুক্তিযুদ্ধের গেজেটে কামরুজ্জামান খান জাসু নামে এক রাজাকারের নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ক্ষুব্দ হয়েছেন ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। জেলার অনেক মুক্তিযোদ্ধা ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত রাজাকার বলে দাবী করেছে।

মুক্তিযোদ্ধারা অবিলম্বে ওই ব্যক্তির নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বিজয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা প্রকাশ্যে ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

ফরিদপুরের ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগে জানান, ফরিদপুর শহরের পশ্চিম গোয়ালচামট এলাকার মৃত আব্দুল হামিদ খানের ছেলে কামরুজ্জামান খান জাসু শহরের এক চিহ্নিত রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্থানী বাহিনীর দোসর হিসেবে সে ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল গোয়ালচামট এলাকার নিত্যানন্দ কবিরাজের বাড়িতে লুটপাটের ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ ও তার মামাতো ভাই বেলায়েত হোসেনকে হানাদার বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়,  এসব ঘটনা বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকা এসেছে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিষ্ট আবু সাঈদ খানের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর’ বইয়ের ১৩৯ পৃষ্ঠায় কামরুজ্জামান খান জাসুর কুকীর্তির আরও ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

ছয় মুক্তিযোদ্ধার যুক্তবিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে কামরুজ্জামান খানের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত (গেজেট নম্বর-৬৪৭৮) হওয়ায় আমরা বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ। তারা অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে কামরুজ্জামানের নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, আবু ইউসুফ, সরোয়ার হোসেন, আব্দুল আহাদ তালুকদার, সৈয়দ হাফিজুল হক ও আলাউদ্দিন আহমদ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদ্য সাবেক কমান্ডার নূর মোহাম্মদ বলেন, কামরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের সময় লুটপাটসহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কাজ করেছে। তিনি কিভাবে মুক্তিযযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেন তা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

এঘটনায় কামরুজ্জামান জাসু বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তাঁর পরিবারের কোন সদস্য কথা বলতে রাজি হয়নি।

এদিকে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজন ফরিদপুরের কবি জসিমউদ্দিন হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রকাশ্যে জাসুর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ জানান । এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান ক্ষু্দ্ব মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্বাস দেন, বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিস করা হবে।