ArthoSuchak
শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য।

তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনের তারিখ তারা নির্ধারণ করেছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজোর দিনে। বড় সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতেই পূজা হয়। এতে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারতো। কিন্তু এসব চিন্তা না করে তারা তারিখ নির্ধারণ করে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শেরে-বাংলা নগরে তার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুল শ্রদ্ধা জানান।

ইভিএমকে ত্রুটিপূর্ণ বলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার অপকৌশল। জনগণের রায় ইভিএমে আসবে না। তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে একটি দলই প্রাধান্য পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে অযোগ্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়, তাদের সেই যোগ্যতা নেই।

ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়াই জনগণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, জনগণ ব্যালটে ভোট দিলে চুরি-ডাকাতি না হলে মোটামুটি একটা ফল পাওয়া যায়। কিন্তু ইভিএমে যথেষ্ট ত্রুটি আছে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করার।

ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে ফেলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকুচিত করে ফেলছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে গত জাতীয় নির্বাচন ৩০ তারিখের পরিবর্তে ২৯ তারিখে করে নিয়েছে। আজকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একটি দলের প্রার্থীরাই প্রাধান্য পাচ্ছে। অযোগ্য নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়। কারণ, তাদের সেই যোগ্যতা নেই।

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। তিনি অতি স্বল্প সময়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি এদেশের মানুষের মনে একটা স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এখনও সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হয়ে আছে এবং জাতিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে।

‘দুর্ভাগ্য আজকে যখন আমরা তার জন্মদিন পালন করছি সেই সময় আমাদের দলের চেয়ারপারসন জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী তার সহধর্মীনি খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী আটক করে রেখেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে। লাখো নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, হত্যা-গুম করছে। তারা দেশক একটি চরম অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে’।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ