পিপলসের আমানতকারীদের অপেক্ষার প্রহর বাড়লো
বৃহস্পতিবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পিপলসের আমানতকারীদের অপেক্ষার প্রহর বাড়লো

নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেতে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের আমানতকারীদের আরও ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি একনাবিন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। ফলে আরো ৪৫ দিন সময় বাড়িয়েছেন উচ্চ আদালত। তবে এ সময়ের মধ্যেও সম্পূর্ণ নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে একনাবিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একনাবিন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এর এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, পিপলস কেসটা নিয়ে খুবই ঝামেলার মধ্যে আছি। উচ্চ আদালত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য সরবরাহ করতে পারছে না পিপলস লিজিং কর্তৃপক্ষ। চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন অনেক কর্মকর্তা। তাই আমাদের নতুন করে আরও ৪৫ দিন সময় দিয়েছেন আদালত। তবে এই সময়ের মধ্যেও নিরীক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ক আসাদুজ্জামান খান জানান, এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান একনাবীন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় একনাবিনকে আরো ৪৫ দিনের সময় দিয়েছে উচ্চ আদালত। তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পিপলস এর একাউন্টে প্রায় ১২ কোটি টাকার মতো জমা হয়েছে।

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড আমানতকারী সমিতির সদস্য সামিয়া বিনতে মাহবুব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন সাধারন আমানতকারীকে টাকা তোলার সময় ১৯ থেকে ২০ হলেই হাজার রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু প্রশান্ত কুমার হালদারদের মত ‘ডাকাত’কে দেখার কি কোনো মানুষ নেই? পিপলস লিজিংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যে টাকা চুরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিজেও এই দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন সামিয়া।

উল্লেখ, টাকা ফেরত পেতে এখনো দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীরা। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা। সেখান থেকে আশার বাণী নিয়ে ফিরলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত আমানতকারীরা। পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ১৯ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড আমানতকারী সমিতি।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারায় গত বছরের ১৪ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি অবসায়ন চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ১৫ সেপ্টেম্বর পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সম্পদ মূল্যায়নের কাজে বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান একনাবিন চার্টার্ড একাউন্টেন্টস কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে ৪৫ দিন সময় দেন হাইকোর্ট।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ