বিল গেটসের নায়ক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে
মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিল গেটসের নায়ক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিনি। কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন কিন্তু তার প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোসফটের নাম জানেন না, এমন মানুষও খুব বেশি নেই। তিনি বিল গেটস। বিশ্বের বহু মানুষের স্বপ্নের নায়ক। কিন্তু সেই নায়কের চোখেও নায়ক হয়ে আছেন অনেকে। বাংলাদেশি এক বাবা-মেয়েকেই যেমন নায়ক হিসেবে বেছে নিয়ে ব্লগ লিখেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনতে অনন্য ভূমিকা রাখছেন ওই দুই বাংলাদেশি। শিশু মৃত্যুর হার বেশি এমন স্বল্পোন্নত দেশ ও সম্পদশালী দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে কাজ করছেন ডা. সমীর সাহা ও তার মেয়ে ডা. সেঁজুতি। স্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখা এ দুই বিজ্ঞানীর ভক্ত দুনিয়ার সেরা ধনী বিল গেটস।

ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে সমাজের রূপ বদলে দেয়ার জন্য যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে নিয়মিত নিজের ব্লগসাইটে ‘বিল গেটস হিরোস ইন দ্য ফিল্ড’ শিরোনামে ব্লগ লেখেন মার্কিন এই ধনকুবের। মঙ্গলবার বিলের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের ডা. সমীর সাহা ও তার মেয়ে সেঁজুতি সাহা।

বিল গেটস লিখেছেন, সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশে ছোট্ট শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠার সময় দেখেছেন কীভাবে রাতের খাবারের টেবিলে তাদের পরিবারের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং সংক্রামক ব্যাধি। খাবারের সময় এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা অনেকের কাছে অদ্ভূত লাগতে পারে। কিন্তু সেঁজুতি সাহার পরিবারে এটা ঘটতো যখন তার বাবা ডা. সমীর সাহা নিজের কাজ নিয়ে বাসায় আলোচনা করতেন। মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক সমীর সাহা রাতের খাবারের সময় তার বিজ্ঞান বক্তৃতার অনশীলন করতেন অথবা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে যা জানতে পারতেন সেসব নিয়ে কথা বলতেন।

বাংলাদেশি এই বাবা-মেয়ের খাবার টেবিলে না থাকতে পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিল গেটস। তিনি লিখেছেন, আমার জন্যও যদি ওই টেবিলে একটি চেয়ার থাকত- আমি রোগ সম্পর্কে জানতে পছন্দ করি!

খাবার টেবিলের এসব আলোচনা সেঁজুতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতো; পরবর্তীতে নিজেকে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। বর্তমানে তার বাবার সঙ্গে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (সিএইচআরএফ) কাজ করেন ডা. সেঁজুতি সাহা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ডা. সমীর সাহার সহায়তায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠছে।

বাবা-মেয়েকে বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্যের ‘গতিশীল জুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে গেটস লিখেছেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পদশালী দেশের স্বাস্থ্যসেবার পার্থক্য, যেখানে শিশু মৃত্যুর হার বেশি রয়েছে; সেসব কমিয়ে আনতে কাজ করছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদানকে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের এই গবেষণা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তাদের কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিএইচআরএফের কাজের বদৌলতে ও শিশুদের জন্য সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবায় জোরালো সহায়তার কারণে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশু মৃত্যু হার কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিল গেটস। ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে এখন টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে প্রায় ৯৮ শতাংশ।

সেঁজুতির বাবার ব্যাপারে বিল গেটস লিখেছেন, সমীর সাহা ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। শিশুমৃত্যুর বড় দুই ঘাতক ব্যাধি মেনিনজাইটিস ও নিউমোনিয়া রোগের টিকা ব্যবহারে বাংলাদেশকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এখনও যে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেঁজুতির বয়ানে সেসব তুলে ধরেছেন বিল গেটস। লিখেছেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রত্যেক বছর ৬ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি না হতে পেরে ফিরে যায়। কারণ হাসপাতালটি ৬৬৫ শয্যার। আর এসব আসন সবসময় পূর্ণ থাকে।

গেটস শেষ করেছেন এভাবে, বাবা-মেয়ের কাজের কল্যাণে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা থাকবে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ