সগিরা মোর্শেদ হত্যা: চারজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে চার্জশিট
রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: চারজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে চার্জশিট

প্রায় তিন দশক আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যার ঘটনায় মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত চার আসামির প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার এ কথা জানান।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার ২৫ জন তদন্ত কর্মকর্তার হাত বদলের পর ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ১ হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে পিবিআই। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. রফিক এ চার্জশিট জমা দেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত বছরের ১৭ আগস্ট এ মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশে ৬ মাস তদন্ত চলাকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা হাইকোর্টে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। সগিরা মোর্শদকে মূলত তুচ্ছ পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনামাফিক তা বাস্তবায়নের জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে দৌড় দিলে তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সগিরা মোর্শেদ মারা যান। সেদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুজনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নেওয়া হয় সাতজনের সাক্ষ্য। বাদীপক্ষের সাক্ষ্যে আসামি মন্টু ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজার নাম আসে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরের বছরের ২৭ আগস্ট অপর এক আদেশে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এতে থমকে যায় মামলার কার্যক্রম।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ