বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে
মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলছে। এবারের মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান এসেছে তাদেরকে সাময়িকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর একটি আদেশ জারি করেছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার সই করা আদেশে এ কথা বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, কেন্দ্রীয়ভাবে মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকেও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম) থেকে মেলার স্টলের জন্য পৃথকভাবে নিবন্ধন নিতে হবে। মেলা চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ নিবন্ধন স্থায়ী হবে। মেলা শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানকে পশ্চিম কমিশনারেটে দাখিলপত্র (রিটার্ন) জমা দিতে হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা পশ্চিম মূসক কমিশনারেট ভ্যাট আদায় করে আসছে। চলতি অর্থবছর নতুন মূল্য সংযোজন কর আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইন হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনের বিধিমালা অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় নিবন্ধন নিয়েছে। এর ফলে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট আদায় নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়। জটিলতা নিরসনে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মূসক আদায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগ থেকেই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে মূসক নিবন্ধন নিয়ে মেলায় পণ্য বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটের কোডে মূসক জমা দিত। কিন্তু নতুন আইনের ধারা-৫ এর উপধারা (৩)-এ কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তির কেন্দ্রীয় এক ইউনিট থেকে অপর ইউনিটে পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান সরবরাহ বলে গণ্য হবে না। বিধিমালার আওতায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিতে চাইলে সেক্ষেত্রে মেলার স্টল থেকে সরবরাহ করা পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য মূসক আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নিবন্ধিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ উপকরণ কর ও আগাম কর তাদের সব ইউনিটের সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূসকের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ইউনিটে রেয়াত গ্রহণ বা সমন্বয় করে থাকে। ফলে একই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কমিশনারেটে রাজস্ব প্রদান করা হলে তা পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি করে। বিষয়টি স্পষ্ট করতে মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে মূসক আদায়ে আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মেলায় অংশগ্রহণেচ্ছু সব প্রতিষ্ঠানকে স্টলের জন্য পৃথকভাবে মেলা চলাকালীন সময়ের সাময়িক মূসক নিবন্ধন নিতে হবে। এ নিবন্ধন কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। মেলার স্টলে পণ্য বিক্রির বিপরীতে আদায় করা মূসক সাময়িকভাবে নিবন্ধন প্রদানকারী ভ্যাট পশ্চিমের কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। সাময়িকভাবে নিবন্ধন গ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠান মেলা শেষে ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটে দাখিলপত্র জমা দেবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মেলা চলাকালীন সময়ের কর আদায়, দাখিলপত্র ভ্যাট পশ্চিম আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিবীক্ষণ করা হবে এবং মেলায় অবিক্রীত পণ্য ক্রেডিট নোট ইস্যু-পূর্বক নিষ্পত্তি করতে হবে।

ভ্যাট পশ্চিম সূত্র জানায়, মেলায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালু করেছে ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেট। মেলায় আগত প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন প্রাপ্তি সহজতর করতে এবং ভ্যাটসংক্রান্ত কোনো সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য এ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভ্যাট আইন পরিপালন মনিটরিং করতে আটটি টহল টিম কাজ করছে।

গত বছর বাণিজ্য মেলায় মোট স্টল ছিল ৫৫০টি। কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট সাত কোটি দুই লাখ টাকার ভ্যাট আদায় হয়। এবার মেলায় এখন পর্যন্ত ৪৫০টি স্টল হয়েছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ