ArthoSuchak
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এবি ব্যাংকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

খেলাপি ঋণ আদায়ে এবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের বিরুদ্ধে  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে পড়ায় সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলটি করেছিল এবি ব্যাংক। কিন্তু মন্ত্রী পরিবারকে গ্রেফতারে গড়িমসির অভিযোগও রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল বুধবার রাতে বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে নেয়া ঋণ বর্তমানে সুদাসলে ৫৫ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পুরো টাকাই এখন মন্দমানের খেলাপি। তারা টাকা ফেরত না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে পলাতক। এখন যদি প্রশাসন সহযোগিতা না করে তাহলে আমরা কীভাবে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের থেকে টাকা আদায় করব। তাদের কি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি বলা যায়-এমন প্রশ্নের জবাবে এবি ব্যাংকের এমডি বলেন, অবশ্যই বলা যায়। তারা আমার টাকা নিয়ে পালিয়ে, চোর; ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।

পুলিশের গুলশান থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ আমরা পেয়েছি। কিন্তু তারা অনেক আগেই বিদেশে চলে গেছেন। গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ করেন; বাস্তবতা বুঝতে চান না। যেহেতু তারা বাসায় নেই মঙ্গলবার গেলেও তো গ্রেফতার করা সম্ভব হতো না। বুধবার আমরা তাদের বাসায় গিয়ে শুধু সাবেক মন্ত্রীকেই পেয়েছি। তাকে ওয়ারেন্টের কথা বলে এসেছি।

এবি ব্যাংক থেকে পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ ও ১৪ সালে ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেয় লতিফ সিদ্দিকী পরিবার। ধলেশ্বরী ও মেজেস্টিকা হোল্ডিং লিমিটেডের নামে বিপুল অংকের এ ঋণ বের করা হয়। দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না করায় বর্তমানে তা ৫৫ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ধলেশ্বরী লিমিটেডের চেয়ারম্যান লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার ছেলে অনিক সিদ্দিকী এবং পরিচালক তার মেয়ে রাইনা ফারজিন। একইভাবে মেজেস্টিকা হোল্ডিং লিমিটেডেরও চেয়ারম্যন লায়লা সিদ্দিকী এবং এমডি অনিক সিদ্দিকী।

ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্প্রতি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা উভয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এন আই এক্টে মামলা দায়ের করে। এরপর গত বছরের ২ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিজ্ঞ আদালত। সেই পরোয়ানা হাতে নিয়ে বুধবার ঋণখেলাপিদের ধরতে তাদের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু তাদের বাসায় পাওয়া যায়নি। এরা শুধু এবি ব্যাংকের ঋণখেলাপি নয়, তারা জনতা ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংকেও বিপুল অংকের ঋণ খেলাপি বলে জানা গেছে।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ