ভৈরবে আমন ধান কেনার সিদ্ধান্তে প্রশাসনের প্রতি কৃষকদের ক্ষোভ
মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঢাকা

ভৈরবে আমন ধান কেনার সিদ্ধান্তে প্রশাসনের প্রতি কৃষকদের ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারী খাদ্যগুদামে চলতি মৌসুমে আমনধান বিক্রিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে কৃষকরা। ফলে গত ৯ ডিসেম্বর থেকে সরকারীভাবে ২৩৬ মেট্রিকটন আমনধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ধান ক্রয় করা শুরু করলেও, স্থানীয় খাদ্যগুদামে ৪০জন কৃষক ধান বিক্রি করেছেন মাত্র ২০ মেট্রিকটন। অথচ আগামী ২৮ ফেব্র“য়ারির মধ্যে এই ধান সংগ্রহ করার সরকারী নির্দেশনা রয়েছে।

ভৈরব খাদ্য গুদামের পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান জানান, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে ৪৭২জন কৃষকের তালিকা দেয়া হয়েছে। এসব কৃষকরা প্রতিজনে ৫০০ কেজি (আধাটন) করে আমন ধান খাদ্যগুদামে সরকারী মূল্যে সরবরাহ করার কথা। সরকার এবার আমন ধানের ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেছেন প্রতি কেজি ২৬ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৭/১৮ টাকায়। কিন্তু কৃষকরা আধাটন করে ধান সরকারী খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে আমরা গুদামে ধান কিনতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক মো: রফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও মজনু মিয়া দাবী করেন, উপজেলার যেকোনো ইউনিয়ন থেকে আধাটন (৪/৫ বস্তা) ধান ভৈরব বাজারের সরকারী খাদ্য গুদামে নিয়ে আসলে ৩ থেকে ৪শ টাকা রিক্সা ভাড়া দিতে হয়। অথচ এটাকা খরচে ১০/১২ বস্তা ধান পরিবহণ করে ভৈরব বাজারের ধানের আড়তে নিয়ে যাওয়া যায়। এ ছাড়া গুদামে ধান দিলে একদম নির্ভেজাল ধান দিতে হয়। খোলাবাজারে বিক্রি করলে ভালো-চিটা মিলিয়ে বিক্রি করা যায়। তবে ধান বিক্রির পরিমান আরও বাড়িয়ে দিলে তারা গুদামে ধান বিক্রি করবেন বলে জানান।

ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলম শরীফ খাঁন জানান, আমরা চেয়েছিলাম এলাকার অধিকাংশ কৃষক যেন সরকারী মূল্যে ধান দিয়ে লাভবান হতে পারেন।কিন্ত ৫০০ কেজি ধান তারা দিতে আগ্রহী হবেন না, এ বিষয়টি বিষয়টি আমাদের মাথায় ছিলনা। এখন পরিমান বাড়িয়ে তালিকাটি ঠিক করে দেয়া হবে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, আমরা শীঘ্রই সভা ডেকে আগের করা তালিকাটি সংশোধন এবং একটন করে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেবো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ