পাখি পালনে যা যা করণীয়
বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পাখি পালনে যা যা করণীয়

আপনি যে পাখি ভালোবাসেন, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটা আগে নির্বাচন করুন।

তবে তা হতে হবে আইনসিদ্ধ তথা খাঁচার পাখি এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত, সময় দেয়ার স্থিরতা বজায় রাখার মনোভাব রাখা। নতুন নতুন তথ্য তথা ব্রিডিং ব্যবস্থাপনায় সংযোজন বিয়োজন এখন নিয়মিত উপস্থিত।

স্থান
এটি একটি ভাইটাল পয়েন্ট। স্থান উপযুক্ত না হলে ফলাফল বয়ে আনে হতাশাময়‌।

পরিবেশ
যত চেষ্টা করি বণ্য পরিবেশ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যারা বন্যপাখিকে খাঁচা উপযোগী করে আমাদের হাতে উপহার দিলেন তারা গবেষণা করে নূন্যতম রিকোয়েরমেন্ট দিয়েছেন। অন্ততপক্ষে এসব পূরণে সচেষ্ট থাকতে হবে।

চাহিদার স্বরূপ
যেখানেই পালন করিনা কেন আলো-বাতাস, নির্জনতা, প্রাইভেসি, স্বাধীনতা ও অধিকার দেয়া চাই। সূর্যের আলো, বাতাসের গমনাগমন, দূর্গন্ধ মুক্ত স্থান, স্যাঁতস্যাঁতেহীন পরিবেশ, মানুষের চলাচল খুবই কম সেরকম একটা জায়গা। শিকারী প্রাণীর ভয়হীন পরিবেশের নিশ্চিত ব্যবস্থা।

ধৈর্য্য
আল্লাহ সবরকারীদের সাথে। পাখি খুব বেশি স্বাধীনতা প্রিয়। আর আমরা শখ করে পালন করে ব্রিড করাই। তাই আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ওরা যখন রেজাল্ট না দেয় তখন কিউরিওসিটির কারণে অধৈর্য্য হয়ে পরি। যখনি আমাদের মন অসহিষ্ণু ও ব্যাকুলতা পরিপূর্ণ তখন পাখিদের সাথে সখ্যতা কমে যায়। অর্থাৎ অধৈর্য্যশীল মানুষের জন্য ব্রিডার হওয়া বেমানান। লেগে থাকলেই আসবে।

পাখি নির্বাচন
আসলে পাখি ভালো মানের বেঁচে নেওয়াটা যোগ্যতার প্রয়োজন। যেমন জ্ঞান ও মানসিকতা। ভালো মানুষ ও ব্রিডার থেকেই পাখি নিন বেশি দাম হলেও।

খাঁচা
ডিম পাড়ার সময় মাঝারি হলেও চলে, তবে তাঁর আগে পরে বড় খাঁচায় রাখা উত্তম, এতে শারীরিক গঠন ও প্রজননের জন্য ফলদায়ক।

লাঠি
লাঠি ব্রিডিং টাইমে শুধুমাত্র একটি। ফ্লাইং খাঁচায় প্রয়োজন অনুসারে দিতে হবে যাতে খুব বেশি উড়াউড়ি করতে সক্ষম হয়। পাখির পায়ের গ্রীপ অনুপাতে গোলাকার আকৃতির দিলে আঁকড়ে ধরতে সুবিধা হয়। লাঠিটি খুব ভালো ও শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে যাতে ম্যাটিং পিরিয়ডে সমস্যা না হয়।

হাঁড়ি
হাঁড়ি মানেই ওদের বেডরুম। বেডরুমটা যদি ছোট হয় তাহলে পুরো সংসার নিয়ে থাকাটা কঠিন তেমনি বড় হলেও সমস্যা। একটিকে বারংবার ইউজ না করলেই ভালো হয়। যদি করেন খুব ভালো করে জীবাণু ধ্বংস করে ব্যবহার করতে হবে। লাঠি ও হাঁড়ির দরজা সমান হবে যাতে খুব সহজেই লাঠি থেকে পা দিয়েই যেন হাঁড়িতে ঢুকতে পারে ও খাওয়াতে পারে। ম্যাটিংয়ের সময় হলে হাঁড়ি দেয়া। অযথা দিলে লাভ তো হবেই না বরংচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আমাদের রুম তথা বিছানা যদি অপরিস্কার থাকে সেদিন তো ঠিকমতো ঘুম আসে না। আসলেও ডায়বেটিস, প্রেসার, হার্ট অ্যাটাকসহ কত ঝুকি, ঝামেলা পোহাতে হয়। তেমনি অস্বচ্ছ পরিবেশে পাখি পালনেও সবসময় রোগবালাই দমনে উপড়ে থাকতে হয়। পাখি পালনে অন্যতম প্রধান বাধা পরিস্কার না করা।

তাপমাত্রা
এটি নিয়ন্ত্রণে আমরা মনে করি আমাদের কোন ধরণের হাত নেই! আসলেই নেই তবে আছেও। আপনার পাখিটি কতটুকু সহ্য করতে পারে তা বজায় রাখতে চেষ্টা করা দরকার। এ্যাডজাস্ট ফ্যান, টেবিল ফ্যান, পানি ছিটিয়ে, গোসল করিয়ে বা না করিয়ে, অনেক সময় চালার চট, কাঁথা, কম্বল, দরজা-জানালা খোলাবাঁধা করা যাতে তাপমাত্রা, আদ্রতা ও এ্যামেনিয়া গ্যাস কন্ট্রোল করা যায়। অর্থাৎ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে এখন রুমের সমস্যা কি এবং তার প্রতিকারে আমার ভূমিকা কি? বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিমের উর্বরতা ও অনুর্বরতা অনেকটা এটির উপর নির্ভরশীল।

সেবা ও পর্যবেক্ষণ
পাখি শখ করে পালন করা কিন্তু একাউন্টিবিলিটি থাকবেনা তা হয়না। ওদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করুন। নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিচারকের চোখে বিশ্লেষণ করুন। সবসময়ই সজাগ থাকতে হবে।

ইন্টারনেট
আপনি কি সমস্যায় পড়েছেন, কি বুঝতেছেন না, কি ভুল করে ফেললেন? সকল প্রকার প্রশ্নের জবাব পেতে গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক গ্রুপের ফাইল গবেষণা করতে হবে। কোন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে একটু মনোযোগী হতে হবে।

খাদ্যসামগ্রী
উন্নতমানের সীড, গ্রীট, সফটফুড, এগফুড ও ফ্রুটস অবশ্যই দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোন সেক্রিফাইস করা মানেই পাখির উপর জুলুম করা। সবসময় পরিস্কার ও তাজা খাবার পরিবেশন করুন।

ঔষধ
ঔষধ দিবো কি দিবো না তা বিতর্ক রয়েছে তবে আয়ূর্বেদীয় হোক, হোমিওপ্যাথি হোক, ভেটেরিনারি হোক একপর্যায়ে এসে কিছু না কিছু ঔষধ খেতে দিই আমরা। অভিজ্ঞ নয় শুধুমাত্র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ যিনি তাঁর পরামর্শ মোতাবেক দরকারি ডোজ নিয়মিত চালানো উচিত। রোগ হবার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে দৌড়াদৌড়ি করলেও তখন পাখিদের জন্য কিছু করা যায় না। পাখি কম থাকলে কয়েকজন ব্রিডার মিলে ঔষধ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

প্রজনন
এই প্রক্রিয়াটি আল্লাহ প্রদত্ত সকল জীবের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। এটি না হলে কিছুরই বংশ বিস্তার লাভ করতো না। তখন মায়েদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হয়। বনজঙ্গলে ব্রিডিং কেইজিং স্টাইলে করেনা। সুতরাং এখানে একবার বন্ডিং হয়ে গেলে সমানে করতে থাকে। কারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নাই। একজন মহিলা যদি প্রতি নয় মাস পর পর বাচ্চা প্রসব করে তাহলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা স্বাভাবিক। তেমনি রেস্ট দিয়ে বেস্টটা বের করুন।

অর্থসূচক/এনএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ