স্বল্প খরচে বেশি লাভ, বাড়ছে সরিষার আবাদ
মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্বল্প খরচে বেশি লাভ, বাড়ছে সরিষার আবাদ

স্বল্প খরচ ও অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভের আশায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। বর্তমানে এখানকার ফসলি জমিসহ দিগন্তজোড়া মাঠ-প্রান্তর সরিষা ফুলের হলুদ বর্ণিলতায় যেনো ঢাকা পড়েছে। প্রস্ফুটিত সরিষার ফুলে মৌমাছির রেণু আহরণ আর চারপাশের বাতাসে মধুচাষিদের মধুরবক্স থেকে আসা মধুর মিষ্টি মৌতাতে যেনো মাতোয়ারা চারপাশের বাতাস। চারদিক বিমোহিত আবেশ আর মৃদু-মন্দ বাতাসের দোলায় ফুটন্ত সরিষার ফুলে ফুলে ঘুরে মৌমাছির মধু আহরণ কৃষকের দুই চোখে জমিয়েছে ভালো ফলনের স্বপ্ন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে অধিক ফলন ও ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে ওঠছে ভৈরবের কৃষকরা। ফলে এখানে প্রতিবছরই আশাব্যঞ্জক বাড়ছে সরিষার আবাদ। বীজ বোনার সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায় বলে বোরো আবাদের কোনো সমস্যা হয় না কৃষকদের। সামন্য পরিমাণ ইউরিয়া ছাড়া আর কোনো সারেরও প্রয়োজন পড়ে না সরিষা আবাদে। চারা গজানোর পর পর আগাছা পরিষ্কার ছাড়া তেমন কোনো শ্রমেরও দরকার হয় না। তাই প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে সর্বোচ্চ খরচ হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা।

সরিষা চাষি শিশু মিয়া, রহমত উল্লাহ ও আক্তার হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ফলন হয় ৬ থেকে ৭ মণ। বিক্রি করা যায় কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে মোট লাভ দাঁড়ায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। তাই অল্প খরচে ভালো মুনাফা পাওয়ায় তাদের মতো অন্যান্য কৃষকরাও ধীরে ধীরে সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে এলাকায় বাড়ছে সরিষার আবাদ।

অন্যদিকে এই সরিষা আবাদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধুচাষিরা তাদের মৌখামার গড়ে তুলেছেন। খামারের প্রতিটি মৌবাক্সে সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ কেজি মধু আহরণ করা যায় বলে জানান খামারিরা। সেই মধু বিক্রি করে তারা বেশ লাভবান বলেও জানান তারা।

উপজেলার আদর্শপাড়া এলাকার মৌচাষি রিমন রহমান জানান, এই মৌসুমে তিনি মৌমাছির ২২০টি বাক্স বসিয়েছেন। তিনি আশা করছেন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। আর এতে তার মোট মুনাফা দাঁড়াবে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর এই মুনাফা হবে এক মাস সময়ের মধ্যে। মৌচাষ একটি লাভজনক ব্যবসা দাবি করে প্রায় একই রকম মুনাফার কথা জানালেন কালিকাপ্রসাদ এলাকার হাফিজ উদ্দিন। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মৌচাষের সাথে জড়িত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছে করলে যেকোনো উদ্যোক্তা এই মৌচাষের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে লাভবান হতে পারেন।

এদিকে এলাকায় মৌচাষিদের খামার থেকে সুলভমূল্যে খাঁটি মধু কিনতে পারায় বেশ খুশি স্থানীয় লোকজন। কথা হয় মধুক্রেতা বায়েজিদ, সাগর, অর্পিতা আর নাজনীনের সাথে। তারা জানান, চোখের সামনে মৌমাছির বাক্স থেকে নিংড়ানো মধু নিতে পারছি। এরচেয়ে আনন্দের আর কি আছে? তাছাড়া বাজারের যেকোনো ব্রান্ডের মধুর চেয়ে দামেও সাশ্রয়ী, মানেও ভাল।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চন্দন কুমার শাহু জানান, বোরো ফসলের আগে অল্প সময়ে, অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে ভৈরবের কৃষকরা। এ ছাড়া সরিষার পাতা জমিতে পড়ে পচে জৈবসার তৈরি করে। ফলে পরবর্তী বোরো আবাদে ইউরিয়া সারের পরিমাণ কম লাগায় কৃষকরা সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে সরিষা আবাদকে কেন্দ্র করে আশে পাশের এলাকা থেকে এখানে এসে মৌখামারিরা মৌমাছির বক্স বসান। এতে মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ণের ফলে জমিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সরিষার ফলন বেশি হচ্ছে বলে জানান মাঠ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা।

চলতি বছর দুই হাজার একশ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম শরীফ খান জানান, এ বছর ৫০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। সরিষাকে তিনি আমন এবং বোরো ফসলের মাঝখানে বাড়তি ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সরিষার ফলন খুব অল্প সময়ে ঘরে তোলা যায়। এতে খরচ যেমন কম হয়, তেমনি পরিশ্রমও কম হয়। অপরদিকে মুনাফা হয় বেশি। তাই এখানকার কৃষকদের এই ফসলের প্রতি আগ্রহ বেশি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ