২৫ বছরেও আন্তর্জাতিক রূপ পায়নি বাণিজ্যমেলা
বৃহস্পতিবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২৫ বছরেও আন্তর্জাতিক রূপ পায়নি বাণিজ্যমেলা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবার চলছে ২৫ তম আসর। গত পহেলা জানুয়ারি বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৫ বছর ধরে এই মেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শুধু নামেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হয়েছে। পুরো বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা যায়নি মেলায় আন্তর্জাতিক মানের তেমন কোন প্যাভিলিয়ন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা যায় বিদেশি বিভিন্ন প্যাভিলিয়নের নামে স্টলগুলো সাজানো হলেও স্টলে বিদেশি পণ্যের তেমন কোন নাম গন্ধও নেই। কিছু দেশের বাইরের পণ্য দিয়ে শুধু নামেই চলছে বিদেশি প্যাভিলিয়ন।

এবার বাণিজ্য মেলায় ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুরসহ ২১ টি বিদেশী প্যাভিলিয়ন থাকার কথা। সেখানে ভারত, পাকিস্থান, থাইল্যন্ড আর তুর্কিদের ছাড়া অন্য তেমন কোন দেশের প্যাভিলিয়ন বাণিজ্য মেলায় চোখে পড়েনি। বিদেশী কিছু পণ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। যেসব পণ্যগুলো দেশের বাজারে অহরহ পাওয়া যায়।

বাণিজ্য মেলায় দক্ষিণ কোরিয়া নামের একটি প্যাভিলিয়নে ঢুকে দেখা যায় একটি বিদেশি স্টল ছাড়া সব গুলোই বেশি স্টল। সেখানে বিক্রি হচ্ছে দেশী পণ্য। এবং কিছু রয়েছে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরাই বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে বিক্রি করছে।

থাইল্যান্ডের দুইটি প্যাভিলিয়ন বাণিজ্য মেলায় দেখা যায়। দুইটি প্যাভিলিয়নে ভেতরে দেখা যায় দেশীয় পণ্যের ছড়াছড়ি। যেসব পণ্য গুলো দেশের বিভিন্ন মার্কেটে অহরহ পাওয়া যায়। সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে স্টলগুলোতে।

বিদেশি কয়েকটি স্টল যেগুলো দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান কাশ্মীরি এবং পাকিস্তানি কিছু স্টল। তবে পূর্ণ একটি বিদেশি স্টল হিসেবে দেখা যায় তুর্কি একটি স্টল। সেই স্টলটি পুরোপুরি তুরস্কের পণ্য দিয়ে সাজানো।

একটি বিদেশী প্যাভিলিয়নের ভিতরে ঢুকে দেখা যায়। প্যাভিলিয়নের মধ্যে ছোট ছোট অনেক গুলো এখনো তৈরি হয়নি। তার মধ্যে জায়গা দেয়া হচ্ছে দেশি স্টল। সেখানে বাণিজ্যমেলার এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভিসা জটিলতার কারণে অনেক বিদেশি ব্যবসায়ীরা আসতে পারে নাই। তাই যেখানে বিদেশি স্কুলের পরিবর্তে বেশি স্টল দিয়ে জায়গা পূর্ণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গতবছর বাণিজ্য মেলায় ব্যবসা করে অনেক প্রতিষ্ঠান তেমন লাভ করতে পারে নাই। তাই অনেক বিদেশি ব্যবসায়ীরা এবার মেলায় আসতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজ বাণিজ্যমেলার ১৩ তম দিনেও এখনো বেচাকেনা তেমন একটা জমে ওঠেনি।

এদিকে বাণিজ্য মেলায় চাহিদা অনুযায়ী স্টল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা। খিলক্ষেত থেকে আসা দর্শনার্থী জামিল বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বলা হলেও কোথাও তেমন বিদেশি প্যাভিলিয়ন দেখছি না। আমরা টিকিট কেটে সময় নষ্ট করে এটা দেখার জন্য কি বাণিজ্য মেলায় আসি।

মিরপুরের রূপনগর থেকে আসা সালেহা খাতুন বলেন, মেলায় বিদেশি প্যাভিলিয়ন থাকলেও বিদেশি তেমন কোনো পণ্য নেই। যে পন্য গুলো রয়েছে এগুলো নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়। যদি বিদেশী কোন পণ্যই না পাওয়া যায় তাহলে আন্তর্জাতিক নাম দেয়ার কি প্রয়োজন।

এদিকে এ ব্যাপারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির উপ-পরিচালক আব্দুর রউফ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২১ টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন রাখা হলেও অনেক স্টল বরাদ্দ রাখার পরেও আসেনি। কয়েকটি বিদেশী স্টল বুকিং দিলেও ভিসা জটিলতার কারণে আসতে পারেনি। তাই কিছু বিদেশি প্যাভেলিয়নে দেশি স্টল জায়গা পেয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে অনেক প্যাভিলিয়ন আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে, যোগ করেন তিনি।

আব্দুর রউফ বলেন, আগামীতে যাতে আরো বেশি বিদেশি স্টল। অর্থাৎ বিদেশি স্টলের পরিমাণ বাড়ানো যায় এবং কিভাবে মেলাকে আরো আন্তর্জাতিক মানের করা যায় সে বিষয়টি দেখা হবে।

এবার ৩২ একর জমির ওপর নতুন রূপে সাজানো হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলার গেট সাজানো হয়েছে জাতীয় স্মৃতি সৌধের আদলে। সঙ্গে রয়েছে পদ্মা সেতুর মডেল।

তবে প্রবেশমূল্য এবার বাড়ানো হয়েছে। আর গত বছরের তুলনায় এবার কমানো হয়েছে স্টলের সংখ্যা। গত বছর ৬৩০টি স্টলের পরিবর্তে এবার করা হয়েছে ৪৮৩টি। অর্থাৎ স্টল কমেছে ১৫৯টি। এবারের স্টলের মধ্যে রয়েছে ১১২টি প্যাভেলিয়ন, ১২৮টি মিনি প্যাভেলিয়ন এবং ২৪৩টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল।

মেলায় প্রবেশ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থসূচক/এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ