ভারতের নাগরিকত্ব আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে মামলা
বৃহস্পতিবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভারতের নাগরিকত্ব আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে মামলা

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে দেশটির কেরালা সরকার।

আজ মঙ্গলবার ভারতের কেরালার সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার আদালতে এ মামলা দায়ের করেছে। এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইন সিএএ বা ক্যা’র বিরুদ্ধে কোনও রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল।

গত ৩১ ডিসেম্বর কেরালা বিধানসভায় ‘সিএএ’ বাতিলের প্রস্তাব পাশ করেছিল রাজ্য সরকার। এবার সিএএ’র বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের ১৩১ নম্বর ধারা মেনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হল। আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় সকলের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২১ এবং ২৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে যথাক্রমে বাঁচার অধিকার ও স্বাধীনভাবে ধর্ম মানার অধিকার। কিন্তু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ ওই তিন ধারার বিরোধী। সিএএ মূলত ‘একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে’ই টার্গেট করছে।

আদালতে কেরালা সরকার বলেছে, ‘এই আইন পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা চিন্তা করছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় যে ‘তামিল হিন্দু’রা রয়েছেন, কিংবা নেপালে যে মাধেশি জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না।’ ওই আইন নাগরিকদের সমানাধিকার খর্ব করছে বলেও কেরালা সরকার জানিয়েছে।

এর আগে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরেই জানিয়েছিলেন, কেরালায় ওই আইন কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। এই আইন আসলে সঙ্ঘ পরিবারের (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ) অ্যাজেন্ডা মেনে ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র মাত্র। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আসলে ভারতীয় সংবিধানের সাম্য ও ধর্মনিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যকে গলাটিপে হত্যা করছে। কেরলা ঐক্যবদ্ধভাবে ওই আইনের বিরোধিতা করবে।’

পিনারাই বিজয়ন আরো বলেন, ‘হিটলারের আদর্শ অনুসরণ করছে আরএসএস। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো মুসোলিনির দলের মতো। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে পরিচালনা করছে আরএসএস। এই সরকার সঙ্ঘের কর্মসূচিকেই রূপায়ণ করতে চাচ্ছে, যে কর্মসূচিতে দেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশকে ‘অভ্যন্তরীণ বিপদ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইনে যে সংশোধন এনেছে, সেখানে ওই কর্মসূচীরই মুখোশ খুলে গিয়েছে।’ ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত আইন এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিলের পদক্ষেপ গ্রহণও জনগণের একটি ‘নির্দিষ্ট অংশকে’ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ